কিশোরগঞ্জ উপ-নির্বাচনে বর্ষণ উপেক্ষা করে বিরামহীন প্রচারণা

গত কয়েকদিন প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আর প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে চলছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের এখন যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। আগামী ৩ জুলাই হাওর অঞ্চলের ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনে শূন্যপদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৪ এপ্রিল এই আসন থেকে সাতবার নির্বাচিত এমপি মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই আসনটি শূন্য হয়। সমগ্র হাওর এলাকা এখন পানিতে টইটম্বুর। সমুদ্রের রূপ ধারণ করেছে সমগ্র হাওর অঞ্চল। এমনিতে বর্ষা মৌসুমে হাওরবাসীদের হাতে সাধারণত কোন কাজ থাকে না। একমাত্র জেলে সম্প্রদায় ও ব্যবসায়ী ছাড়া কৃষিজীবীসহ অন্যান্য পেশার লোকজন আড্ডা মেরে কিংবা তাস খেলে অলস সময় কাটায়। কিন্তু এবারে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই হাওরবাসী নড়েচড়ে বসেছেন। কারণটি হচ্ছে উপ-নির্বাচন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই হাওরে জোরেশোরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এই নির্বাচনকে ঘিরে হাট-বাজার, দোকানপাট কিংবা অফিস-আদালত সর্বত্রই এখন আলোচনা। প্রার্থী মাত্র দু’জন। এরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি পুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মহিতুল ইসলাম অসীম। দু’জন দুই উপজেলার লোক। তৌফিক মিঠামইন উপজেলার বাসিন্দা এবং অসীমের বাড়ি অষ্টগ্রাম উপজেলায়। সৈয়দ মহিতুল ইসলাম অসীম অষ্টগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। অসীম আরেকটি কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকসহ মোট ৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিলের পর গত ৯ জুন মনোনয়নপত্র বাছাইকালে সৈয়দ মহিতুল ইসলাম অসীম ও অপর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ত্রুটিজনিত কারণ দেখিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার বাতিল করে দেন। অসীম ঢাকার নির্বাচন কমিশনার সচিবালয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করলে ১৩ জুন তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এর ফলে সৈয়দ মহিতুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উত্সাহ-উদ্দীপনা ফিরে আসে। বর্তমানে অসীমের সমর্থকরা তার মার্কা ‘ফুটবল’ নিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক সত্ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সারা ভাটি মুল্লুকে পিতার মতোই তার একটি ‘ক্লিন’ ইমেজ রয়েছে। তাছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী বাহিনী। তবে রাজনীতিতে একেবারে নবীন। প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে কিছুটা অন্তর্দ্বন্দ্বও রয়েছে। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রপতির পরিবার থেকে প্রার্থী নির্বাচনকে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না। তারা প্রার্থী নির্বাচনকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করছেন। কারণ সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এই নবীন রাজনীতিককে নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। তবে কর্মী বাহিনীকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। উপ-নির্বাচনের আর মাত্র কদিন বাকি। হাওরে বর্ষাকালে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে উভয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণার কাজ। পোস্টার শোভা পাচ্ছে হাট-বাজারে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় তারা পথসভা করছেন, করছেন গণসংযোগ।