বালু খেকোদের বাঁধে পানিশূন্য ধলেশ্বরী

যমুনা-ধলেশ্বরী মোহনায় প্রবেশপথে বালুখেকোদের দেয়া বাঁধে বর্ষা মৌসুমেও পানিশূন্য হয়ে পড়েছে ধলেশ্বরী নদী। নদী থেকে বালু পরিবহনের ট্রাক পারাপারের জন্য নদীটির ওপর ৩টি রাস্তা (বাঁধ) নির্মাণ করা হয়েছে। জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়া গ্রামে ধলেশ্বরীর বুকে ২টি ও শ্যামশৈলে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ার কারণে নদী পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। নদীতে পানি না থাকায় ওই এলাকার জেলেরা কর্মহীন হয়েছে পড়েছে। যদিও নদী প্রবাহ বন্ধ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ মতে, আর এ চক্রের প্রধান কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা। প্রায় দেড় মাস আগে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বাঁধ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করেছে। সপ্তাহখানেক আগে উদ্বেগ জানিয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসককে এব্যাপারে একটি ঠিঠিও দেয়া হয়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধলেশ্বরীর মোহনায় নদীর আড়াআড়ি গত অক্টোবরে শেষের দিকে তিনটি বাঁধ নির্মাণ করে বালু ব্যবসায়ীরা। রাস্তাগুলো দিয়ে দিনে-রাতে শত শত ট্রাক আসা-যাওয়া করছে। নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালু ট্রাক যোগে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের জোকার চরে বিশাল এলাকাজুড়ে জমা করা হচ্ছে। মূল প্রবেশপথ বন্ধ করায় বর্ষা মৌসুমেও ধলেশ্বরী নদী পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদী থেকে শুরু হয়ে ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ধলেশ্বরী নদী কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী থেকে পুংলী হয়ে মির্জাপুর বংশাই দিয়ে তুরাগে গিয়ে মিশেছে। কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউল আলম তালুকদার বলেন, ধলেশ্বরী নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে ওই এলাকার জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ওই এলাকার নদীর মোহনায় কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বালু ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি আগে বালু ব্যবসা করতাম। কিন্তু এখন করি না। ইতোমধ্যে সেখান থেকে আমার ব্যবসা গুটিয়ে নেয়া হয়েছে।’ এব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা জানান, ইতোমধ্যে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে অবৈধ বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে ভাম্যমান আদালনের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধগুলো কেটে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ইতোমধ্যে একটি বাঁধের অংশবিশেষ কেটে দেয়া হয়েছে। অন্যগুলো কেটে দেয়ার ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।