ঘোষণার ৫ বছরেও বরিশালে চালু হয়নি এলসি স্টেশন

নদী বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের বিভাগীয় শহর বরিশালে এলসি স্টেশন চালু করার ঘোষণা দিলেও তা গত ৫ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি। এখানকার শিল্প মালিকদের এখনো ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য শেখবাড়িয়া হয়ে প্রায় ১শ’ নটিক্যাল মাইল বেশি পথ পাড়ি দিয়ে খুলনা এলসি স্টেশনে গিয়ে শুল্কায়ন করতে হচ্ছে। সেখান থেকে বরিশাল ফিরে আসতে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া থেকে বরিশালের সরাসরি দূরত্ব অপেক্ষা খুলনার দূরত্ব দ্বিগুণ। শিল্প মালিকরা জানান, এই কারণে অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। লোকসানের মুখে পড়া শিল্প মালিকরা তাদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, এনবিআর একটু দৃষ্টি দিলেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তারা জানান, রাজস্ব বোর্ড ২০০৮ সালের ২৯ জুন বরিশাল এলসি স্টেশন ঘোষণা করে। এর কার্যক্রম আজ পর্যন্ত চালু হয়নি। ভৌগলিকভাবে বিভাগীয় শহর বরিশাল পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে নদী বেষ্টিত। তাই পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথই হচ্ছে এই নগরীর প্রধান মাধ্যম। অসংখ্য নৌ-যান নোঙর করার জন্য এখানে বিআইডব্লিউটিএর ঘাট, ত্রিশ গোডাউন ঘাট, কেডিসি ঘাটসহ রয়েছে অসংখ্য সরকারি, বেসরকারি ঘাটের ব্যবস্থা। নগর সংলগ্ন যে কোন একটি ঘাটকে এলসি স্টেশন ঘোষণা করে ঐ ঘাটের মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্য লোড-আনলোডের ব্যবস্থা করা অনায়াসেই সম্ভব। আলাদা ভৌত অবকাঠামো তৈরির কোনও প্রয়োজন নেই। বরিশাল কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে কর্মরত জনবল দিয়েই পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পাদন করা সম্ভব। এ তথ্য জানিয়ে বরিশাল চেম্বার অব- কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ইত্তেফাককে জানান, যেহেতু এলসি স্টেশন এর মাধ্যমে বেশির ভাগই কারখানার কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে সেহেতু তা সাধারণত সিআরএফভুক্ত হওয়ায় রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ঝুঁকি নেই। বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, এলসি স্টেশন-এর কার্যক্রম চালুর জন্য তারা গত বছর সর্বশেষ এনবিআরকে চিঠি দিয়েছিলেন।