গোদাগাড়ীতে ১৫৮তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালন
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৩, ২৩:১১
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১৫৮তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌর মিলনায়তনে আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীরা শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে গেলেও সমতলে বসবাসকারী আদিবাসীরা পিছিয়ে পড়েছে। তাই সমতাল আদিবাসীদের শিক্ষিত হয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আদিবাসীদের শিক্ষা, চিকিত্সা সেবাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করছে সরকার। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে আদিবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গণেশ মার্ডির সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম তুহিনুর আলম, কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল মজিদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিল মারান্ডি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন দিলু, বেসরকারি সংস্থা আশ্রয়ের সদস্য অধ্যাপক গণেশ সরেন, গোদাগাড়ী জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি নন্দলাল টুডু, একতা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, জৈতুনের নির্বাহী পরিচালক আমবিয়াস বিশ্বাস প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে সাঁওতাল নৃত্য পরিবেশনসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, ১৮৫৫ সালে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ভগনডিহি গ্রামে সিধু কানহুর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ ঘটে। সাঁওতাল বিদ্রোহে স্থানীয় সাঁওতালদের পাশাপাশি বাঙালি, হিন্দু, মুসলমান, কামার, কুমর, তেলী, গুয়ালা, চামার, ভুঁইয়া, বাগদি, হাঁড়ি, ডোম ইত্যাদি জাতি ও বর্ণের গরীব কৃষকরা অংশ নেয়। তখন থেকেই সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস বরেন্দ্র অঞ্চলের আদিবাসীরা পালন করে আসছে।