পরবর্তী অর্থবছরে রাজস্বের বৃহত্তম উত্স হবে আয়কর :অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৫
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উত্স আয়কর খাত। আর পরবর্তী অর্থবছরে (২০১৪-১৫) আয়কর হবে রাজস্বের বৃহত্তম উত্স। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনলাইনে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিবন্ধনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংসদ সদস্য শাহ জিকরুল আহমেদ ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা (বর্তমান সরকার) যখন ক্ষমতায় এসেছি তখন ৭ লাখ লোক কর দিত। বর্তমানে সেই সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ। আগামী অর্থবছরে অন্তত দেশের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশকে আয়করের আওতায় আনা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। এই হিসেবে প্রায় ১৬ লাখ লোক করের আওতায় আসবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩৩ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে ১৭ লাখে এসেছে। সবাই যাতে অনলাইনে কর দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। তবে অনলাইনে টিআইএন নিবন্ধনে প্রথমে কিছু সমস্যা হবে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
দেশে ৩৩ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও তারা নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন না। এসব টিআইএনধারীর অনেকেই অসত্ উদ্দেশ্যে বা ভুয়া টিআইএন গ্রহণ করেছেন। এই অবস্থায় সঠিক করদাতা শনাক্তকরণের জন্য প্রকৃত টিআইএন নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সমপ্রতি এনবিআরের টিআইএন স্বচ্ছকরণের প্রক্রিয়া (টিআইএন ক্লিনজিং) শুরু করে। এনবিআরের হিসাবে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা ১৭ লাখ। বর্তমানে বিদ্যমান টিআইএনধারীসহ নতুন করে যারা টিআইএন নিতে চান তাদেরও অনলাইনে টিআইএন নিবন্ধন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন ও যৌথ মূলধনী কোম্পানির ও ফার্মের নিবন্ধকের কার্যালয়ের (আরজেএসসি) সহায়তা নিচ্ছে এনবিআর।
অনলাইনে টিআইএন নিবন্ধনের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য ভাণ্ডার ও কোম্পানি করদাতার জন্য আরজেএসসি’র তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তি টিআইএন নিবন্ধনকারীর দেয়া তথ্য তার নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। নিবন্ধনের জন্য দেয়া তথ্যে অমিল হলে নিবন্ধন হবে না। নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত তার তথ্য ভাণ্ডারের সাথে মিললেই কেবল তার নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। কোম্পানি করদাতাদের ক্ষেত্রেও একই কায়দায় আরজেএসসি’র তথ্য ভাণ্ডার মিলিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রায় ৩৩ লাখ টিআইএনধারী আছে। তাহলে কেন ১৩ লাখের মতো করদাতা? তিনি বলেন, এর মধ্যে অনেক টিআইএনই ছিল ভুয়া বা অসত্ উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা। এ ধরনের ১৪ লাখ টিআইএন বাদ দেয়া হয়েছে। বাকি ১৭ লাখ এখন রয়েছে। এর ফলে একক ও সার্বজনীন টিআইএন পদ্ধতি চালু হবে। সেইসাথে করদাতাদের হয়রানিও কমবে।
এছাড়া চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে বলে আবারও জানালেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন, ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা এনবিআরের আছে কি না।’ যারা এ প্রশ্ন করেন তারা এনবিআরের সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত নন। সেজন্য গত বছরের উপর চলতি বছর ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আদায় করা সম্ভব। চ্যালেঞ্জকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছি। আমরা পারবো। সকল ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতাকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টিআইএন নিবন্ধনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এছাড়া রাজস্ব খাতে অস্বচ্ছতা আছে স্বীকার করে তিনি বলেন, সমস্যা থেকে উত্তরণে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে টিআইএন নিবন্ধনের জন্য করদাতাদের আহ্বান জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, কর দিলে মনে সুখকর অনুভূতি তৈরি হয়। সবাইকে এ সুযোগ নেয়ার অহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এ বছর ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে আয়করের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। ১৫ লাখ করদাতা সৃষ্টি করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে।
তথ্যমন্ত্রী শুল্ক খাতের চেয়ে আয়কর খাতের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমদানি- রফতানি শুল্কের উপর নির্ভর করলে দাঁড়াতে পারবো না। ব্যক্তি করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। ৩০ হাজারের বেশি লোক আছেন যারা ১ কোটি টাকা করে কর দিতে পারেন। তাদের করের আওতায় আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া কর আহরণ করতে গিয়ে করের উত্স যাতে ধ্বংস না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার উপরও জোর দেন তিনি।