অধিকতর তদন্তের ফাঁদে শেয়ারবাজারের দোষীদের বিচার

শেয়ারবাজার কারসাজির প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কারসাজির নেপথ্যের নায়কদের বিচার আটকে আছে অধিকতর তদন্তের ফাঁদে। অমনিবাস অ্যাকাউন্টে কারসাজি, শেয়ার অতিমূল্যায়নে কোম্পানির অনিয়ম, সম্পদ অতি মূল্যায়ন, রাইট শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুতে অনিয়ম, এবং বিএসইসি’র (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া আটকে আছে অধিকতর তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার কারণে। পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও অধিকতর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর সংসদে উপস্থাপিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ২০০৯ ও ১০ সালের শেয়ারবাজারে সংঘটিত কারসাজি বিষয়ে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল সরকার। ওই কমিটি ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। দুই মাসে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে না পারায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছিল ওই কমিটি। এ অধিকতর তদন্তের মধ্যেই আটকে গেছে কারসাজিতে যুক্তদের বিচার। তবে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। অর্থমন্ত্রীর প্রতিবেদনে জানা গেছে, অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে কারসাজির ক্ষেত্রে পুনঃতদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের অমনিবাস অ্যাকাউন্টের বিষয়েও অধিকতর তদন্তের কাজ শেষ হয়নি। পুনঃতদন্ত কমিটি এ বিষয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছে। ২০০৯ ও ১০ সালে শেয়ার দর অতিমূল্যায়নের নেপথ্যে থাকা ৫০টি শীর্ষ কোম্পানির মধ্যে ১টি কোম্পানির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কোম্পানিগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া কোম্পানির সম্পদ অতি মূল্যায়নের বিষয়ে পুনঃপরীক্ষা করার প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি। রাইট শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুতে অনৈতিকতার তদন্তের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে এদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের জন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শীর্ষ প্লেয়ারদের লেনদেনের অনিয়মের প্রেক্ষিতে জরিমানা করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্তের ভিত্তিতে রাইট শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুতে এ সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন করা হচ্ছে। পাবলিক ইস্যু রুলস,২০০৬ সংশোধন করে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সার্বক্ষণিক যৌথ ইন্সপেকসন দল গঠন করা হয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির জন্য বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটি এর সুপারিশ অনুযায়ী ইতোমধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংকসমূহের অমনিবাস হিসাবকে একক বিও হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অতি শীঘ্রই বাস্তবায়ন করা হবে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্য নির্বাহী পরিচালক তারিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছিল যা সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে বিএসইসি’র প্রাক্তন সদস্য মনসুর আলমের বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্তের জন্য কমিশনের কমিশনার মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী এবং পরে আ. সালাম সিকদারকে অন্তর্ভুক্ত করে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।