সমস্যা জর্জরিত কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নানা সমস্যায় জর্জরিত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীরা অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি গাইনী ও সার্জারী বিষয়ে কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতি চিকিত্সাসেবা এবং অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে বহুদিন যাবত্। প্রয়োজন নেই এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে রোগীরা সর্বস্বান্ত হয়ে যান, এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার এ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীদের মধ্যে ৮০ ভাগই দরিদ্র ও অসহায়। সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাব সেন্টারে গিয়ে হতদরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ স্বচক্ষে দেখা যায়। সকাল ৯টা বাজার পূর্বেই হাসপাতালের প্রবেশ মুখে দালালরা ওত পেতে থাকে রোগীর জন্য। এসব দালালদের সাথে কোন কোন ডাক্তারের সখ্যতা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এদিকে ওষুধ কোম্পানির মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টিটিভদের ১টার আগে ডাক্তারদের চেম্বারে প্রবেশ নিষেধ থাকা সত্ত্বেও দুপুর ১২টার পূর্বেই তারা চেম্বারে ঢুকে পড়তে উদগ্রীব হয়ে উঠে। শুরু করে দেয় প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি। কোন কোন ডাক্তার অফিস চলাকালীন হাসপাতালের চেম্বারে বসেই অবৈধভাবে ফি নিয়ে রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাক্তারদের দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন এস.এম আব্দুস ছাত্তার বলেন, প্রতিটি মাসিক সভায় সঠিকভাবে দায়িত্ব, কর্তব্য পালন করার জন্য হাসপাতালের স্টাফদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এরপরও যদি কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতালটিতে জনবল সংকট তীব্র। হাসপাতলটিতে টিএইচও, কনসালটেন্ট ও আরএমও মিলে ২১ পদের মধ্যে ১১টি পদই শূন্য। গাইনী কনসালটেন্টের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। সার্জিক্যাল কনসালটেন্টের পদ শূন্য থাকায় অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। আরএমও’র পদটিও শূন্য। এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডাঃ কাঞ্চন কুমার দেব। টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে করা যাচ্ছে না। ইসিজি মেশিনটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বহুদিন থেকে। ডেন্টাল বিভাগে চেয়ারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে আছে। তাছাড়া এ বিভাগের ডাক্তার প্রেষণে থাকায় কার্যক্রম মূলত বন্ধ হয়ে আছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফ করার কোন মেশিন নেই। এতে রোগীরা এ হাসপাতাল থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে রোগীদের হাতে স্লিপ ধরিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বলা হয়। নাইটগার্ডের দুটি পদই শূন্য। একজন এমএলএসএস দিয়ে নাইট গার্ডের কাজ করানো হচ্ছে। আয়ার দুটি পদের মধ্যে ১টি শূন্য। সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদসংখ্যা ১৪। এর মধ্যে ৫টি পদ শূন্য । দীর্ঘদিন থেকে পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা ও মেডিক্যাল অফিসার (এমওএমসিএইচ) লাইগেশন নেই। উক্ত পদদ্বয়ে অতিরিক্তি দায়িত্ব পালন করছেন হাজীগঞ্জ উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও এ বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার মঈনুল ইসলাম। ৬৯টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের মধ্যে ১৫টিই শূন্য। ৪টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৪জন ডাক্তারের মধ্যে ১জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে।