বটিয়াঘাটা নদীর ঘোলা পানিতে স্বপ্নে পাওয়া ‘মহৌষধ’

উপজেলায় গুজব ছড়িয়েছে, আমীরপুর ইউনিয়নের জনৈক আকরাম হোসেনের স্ত্রী বিউটি বেগম নাকি কাজিবাচা নদীর ঘোলা পানিতে ‘সর্বরোগের মহৌষধ’ আছে বলে স্বপ্নে দেখেছেন! আর যায় কোথায়। লাখো নারী-পুরুষ-শিশু সারা দেশ থেকে ছুটে আসছে। নদীর দূষিত ও ঘোলা পানি পান করছে রোগ সারানোর আশায়! গুজব এমন ছড়িয়েছে যে উচ্চশিক্ষিত অনেকেও সেখানে যাচ্ছেন নদী থেকে ‘মহৌষধ’ পান করতে! এই পানি পানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, দানবাক্স, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্টিয়ারিং কমিটি। চাঁদাবাজিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যিনি স্বপ্নে এই ওষুধ আবিষ্কার করেছেন সেই বিউটি বেগম নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত। নিয়মিত কেমোথেরাপি নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কুসংস্কার আর অন্ধ বিশ্বাসে পড়ে ভোর থেকেই নদী তীরে জড়ো হতে শুরু করে নদীর পানি খেতে আসা লোকজন। একে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠেছে বহু হোটেল। নদী পারাপারে আগে যেখানে ছিল একটিমাত্র নৌকা সেখানে একই সাথে ৮টি ট্রলার ব্যবহার করা হচ্ছে। অগণিত ট্রলার, লঞ্চ আর নৌযানে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে হাজার হাজার মানুষ। এই পানি পান করে রোগমুক্ত হয়েছেন এমন কাউকে পাওয়া গেল না। আমতা আমতা করতে করতে কেউ বললেন, মনে হচ্ছে একটু কমেছে। কেউ বললেন পানি পানের পর অসুখ বেড়ে গেছে। বিউটি বেগম বলেন, ‘‘ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর তিনটি কেমো নিয়েছিলাম। এক রাতে স্বপ্নে দেখি এক মহিলা বলছেন, জমজমের পানি পানের পর বুজবুনিয়া মসজিদের পাশে কাজিবাচা নদী থেকে পানি পান করলে রোগ সেরে যাবে।’’ পানি পানের পর আরও দু’বার কেমো নিয়েছেন তিনি। স্বপ্নে রোগ সারার উপায় আবিষ্কারের পরেও আবার কেমো নিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমি ক্যান্সার থেকে মুক্তি চাই। নদীর পানি খেয়ে হোক আর কেমো নিয়ে হোক, সারলেই খুশি।’’ স্থানীয় অনেকে বিষয়টি নিয়ে মহা বিরক্ত। হাজার হাজার লোকের মলমূত্রে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও পরিবেশ নোংরা হচ্ছে । দানবাক্স বসিয়ে দান নেয়া হচ্ছে। অনেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারও কৌতূহল রয়েছে। স্থানীয় ব্যক্তি আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, এভাবে হুজুগে পড়ে পানি খাওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েজ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ সুশান্ত কুমার বলেন, নদীর ঘোলা পানি খেয়ে বহু লোক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখনও ৬৫ জন ভর্তি রয়েছে। বটিয়াঘাটা থানার ওসি এনামুল হক ইত্তেফাককে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।