সৌদি আরবে সাধারণ ক্ষমার সময় শেষ হচ্ছে কাল
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
বাংলাদেশের অবৈধ শ্রমিকদের জন্য সৌদি বাদশাহ’র সাধারণ ক্ষমার (এ্যামনেস্টি) মেয়াদ আগামীকাল ৩ জুলাই শেষ হচ্ছে। অবৈধ শ্রমিকদের অনেকেই ইতিমধ্যে এ্যামনেস্টির আওতায় বৈধ কাগজপত্র তৈরি করতে পারেননি। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সরকার আশা করছে তিন অথবা চারমাসের জন্য সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বাড়ানো হবে।
সরকারি হিসাবে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা আনুমানিক ২৫ লাখ। এর বাইরে অন্তত চার লাখ শ্রমিক আছে তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র, সেদেশে অবস্থান ও কাজের অনুমতি, এমনকি পাসপোর্টও নেই। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার বাংলাদেশের অবৈধ শ্রমিকদের কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট ঠিক করে বৈধতা পেতে দুই মাসের সময়সীমা বেধে দেয়। সৌদি বাদশাহ্’র বিশেষ এ্যামনেস্টি বলে পরিচিতি এই ক্ষমার সময়সীমা ৩ জুলাই শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশের জন্য অনুরূপ এ্যামনেস্টি দেয় সৌদি সরকার। বাংলাদেশের তুলনায় এসব দেশের অবৈধ নাগরিকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।
অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমতা বিধান কিংবা বাস্তব প্রয়োজনে এ্যামনেস্টির মেয়াদ তিন থেকে চার মাস বাড়ানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখে মেয়াদ বাড়াতে অনুরোধ করেছেন সৌদি বাদশাহ’র কাছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি একাধিকবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমার মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। সৌদি মন্ত্রীরা ইতিবাচক আশ্বাসও দিয়েছেন।
পাশাপাশি সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা মিশনে অস্থায়ীভাবে নতুন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। গত দুই মাস ধরে দুই মিশনের নিয়মিত লোকবলের বাইরে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এবং ঢাকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঠানো হয়েছে রিয়াদ ও জেদ্দা মিশনে। সব মিলিয়ে ৩০০ অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত রবিবার পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের কাগজপত্র হালনাগাদ তথা বৈধ করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী পাসপোর্টসহ বৈধ কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট তৈরির পর প্রত্যেক শ্রমিককে স্থানীয়ভাবে একজন মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। মালিকের নিয়োগপত্র পেলে তা সৌদি শ্রম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য জমা দিতে হবে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টকে বৈধ কর্মী বলে বিবেচনা করা হবে। জেদ্দা ও রিয়াদ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অস্থায়ী কর্মীরা দুই মাস ধরে দিন রাত কাজ করেছেন। এমনকি তারা ছুটির দিনেও বাংলাদেশিদের কাগজপত্র নিয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশ থেকেও সময়সীমা বাড়ানোর জন্য চাপ আছে বলে জানা যায়।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম গতরাতে ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে টেলিফোনে জানান, আমরা খুবই আশাবাদী যে সৌদি সরকার সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বাড়াবে। সৌদি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের মনোভাব ইতিবাচক মনে হয়েছে।