খাদ্যে ভেজাল দেয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের জেল
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে সাজার মেয়াদ বেড়ে হবে ১৪ বছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, ১৯৬৯ সালের ‘পিওর ফুড অর্ডিনেন্স’ রহিত করে এ আইন প্রণয়ন করা হবে। ব্রিফিংয়ে প্রথমে তিনি এ আইনের আওতায় ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকার কথা বললেও পরে তা সংশোধন করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, সচিবের ব্রিফিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে যে তথ্য পাঠানো হয়েছিল, তাতেই ভুলক্রমে মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
সচিব জানান, এ আইনের আওতায় ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হবে, যার কাজ হবে খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নিম্নমানের পণ্য বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া। এ আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ফৌজদারী আদালতে ২২ ধরনের অপরাধের বিচার করা হবে বলে সচিব জানান।
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প (নিয়ন্ত্রণ ও বিপণন) ১৯৮৪ সংশোধন করে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুদের বাড়তি খাদ্য এবং উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রস্তাবিত আইনে বিপণন ও বিতরণ সংস্থাগুলো নিবন্ধন এবং শিশু খাদ্যের বিকল্প ক্রয় ও বিপণনের জন্য সরকারের পূর্বানুমতির বিধান রাখা হয়েছে। এ আইন লঙ্ঘন করলে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।