কাকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মো. মিজানুর রহমান, পঞ্চম শ্রেণি আমার প্রিয় স্কুলের নাম— কাকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেশের উত্তর জনপদের নিভৃত পল্লীতে আমার প্রিয় স্কুলটি অবস্থিত হলেও এর ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। লালমনিরহাট জেলার ঐতিহ্যবাহী কাকিনা রাজবাড়ির প্রাণকেন্দ্রে এবং “কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর, মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর”— এই বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা কবি শেখ ফজলল করিম-এর স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটার উপকণ্ঠে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট-ঢাকা মহাসড়কের কোল ঘেঁষে এক মনোরম পরিবেশে আমার প্রিয় স্কুলটি অবস্থিত। স্কুলটি ১৯০১ সালে তত্কালীন কাকিনার মহারাজা মহেন্দ্ররঞ্জন রায় চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন। যে সময়ে কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না, ছিল না কোনো প্রশাসনিক অবকাঠামোর দৃঢ় ভিত্তি এবং যখন সবাই লেখাপড়ার স্থান হিসেবে কেবল ‘পাঠশালা’-কে বুঝতেন, তখনই আমার প্রিয় এই স্কুলটির প্রতিষ্ঠা। যা হোক—কাকিনা মহারাজার উদার পৃষ্ঠপোষকতা এবং এলাকার বিদ্যোত্সাহী ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক সহায়তা পেয়ে আজ আমার প্রিয় স্কুলটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬’শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক শিফটে পরিচালিত। বিদ্যালয়টিতে ৯জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। শিক্ষকগণ সবাই আমাদের প্রতি খুবই আন্তরিক। তারা সব সময় আমাদের খোঁজ-খবর রাখেন। আমার প্রিয় স্কুলটি বর্তমানে দ্বিতল। এর অবকাঠামো— মনোমুগ্ধকর এবং এর প্রতিটি শ্রেণিকক্ষেই বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে আমি পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছি। প্রতি বছর বিদ্যালয়টির সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং প্রতি বছরই ২/৩ জন করে ছাত্র-ছাত্রী প্রাথমিক বৃত্তি পেয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম স্যার প্রতিনিয়ত আমাদের পড়ালেখার উন্নতিকল্পে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় আমরা যাতে আরো ভাল ফল অর্জন করতে পারি, তার জন্য তিনি যথাযথ দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এজন্য আমার এই প্রিয় স্কুলটির সাথে তিনিও আমার নিকট খুব প্রিয় স্যার। বর্তমানে আমার প্রিয় স্কুলটির বয়স— ১শ’ ১২ বছর। আর এই সময় পরিক্রমায় অসংখ্য গুণী ব্যক্তিত্ব এই স্কুলটি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আজ দেশে-বিদেশে স্বনামে বিশেষ পরিচিত হয়ে আছেন। আমার প্রিয় স্কুলটিতে প্রতি বছর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে হৈ-হুল্লোর করে বনভোজনসহ জাতীয় নানা দিবস— বিশেষ করে- ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ এবং আরো অন্যান্য বিশেষ দিবসসমূহ যথাযথভাবে উদযাপিত হয় এবং এসব দিবসে খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিদ্যালয়টির একেবারে সম্মুখভাগে তত্কালীন কাকিনার মহারাজা মহেন্দ্ররঞ্জন রায় চৌধুরীর স্বর্গীয় পিতা মহারাজা মহিমারঞ্জন রায় চৌধুরীর নামে উত্সর্গিত “কাকিনা মহিমারঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়” অবস্থিত। এর অনতিদূরে তিস্তা নদী প্রবাহিত হওয়ায় বিদ্যালয়সহ সমগ্র এলাকার নৈসর্গিক দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। বিদ্যালয়টির এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। এমন একটি সুপ্রাচীন ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশে অবস্থিত বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছি।