শিক্ষার আলো ছড়াতে বাউফলে দু’টি স্কুল অনুকরণীয় মডেল
আমিরুল ইসলাম, বাউফল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫১
শিশু শিক্ষার আলো ছড়াতে পটুয়াখালীর বাউফলে দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন অনুকরণীয় মডেল । একসময় এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলত মেধা প্রতিযোগিতা । পৌর শহরে অবস্থিত দু’ প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন অতীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে । বাউফল পৌর শহরের প্রাণ কেন্দে একটি খালের এপার-ওপার স্কুল দু’টির অবস্থান। নামের পার্থক্য শুধু ইংরেজি আর বাংলা। ১৯১৪ সালে দাসপাড়া মডেল প্রাইমারি স্কুল এবং ১৯৫৭ সালে বাউল আদর্শ প্রাইমারি স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। জানা যায়, প্রতিষ্ঠা লগ্নে স্কুল দুটো গুটিকয়েক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে মক্তব কিংবা টোলঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। তখন ঘর ছিল তালপাতা ও খড়কুটার ছাউনি। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য ছিল হোগলাপাতার মাদুর , শিশুদের লেখার জন্য ব্যবহার হত বাঁশের কঞ্চি ,মাটির তৈরি পেন্সিল আর শিক্ষকদের জন্য ছিল ভাঙ্গা টেবিল-চেয়ার । ওই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। হয়েছে সবকিছুর আমূল পরিবর্তন।খড়কুটোর চালাঘর এখন দোতলা তিনতলা ভবনে উন্নীত হয়েছে। দু’টো স্কুলে এখন ধারণ ক্ষমতার অধিক ছাত্র-ছাত্রী। মান বেড়েছে লেখাপড়ার। প্রতিনিয়ত দু’টো স্কুলেই পাল্লা দিয়ে চলে মেধা প্রতিযোগিতা। প্রতিবছর কে কতটা ‘এ’ প্লাস এবং মেধাবৃত্তি ধরে রাখতে পারে এ নিয়েও দু’ স্কুলের মধ্যে চলে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গত ১০ বছরের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় দু’স্কুল সমান তালে জেলা-উপজেলায় মেধা তালিকায় শীর্ষ স্থানে থাকে । এছাড়া জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কোন স্কুল কতটা পুরস্কার লাভ করতে পারে এ নিয়েও তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। স্কুল দু’টোর অফিস কক্ষে পা ফেললেই মনে হয়, এখানে সত্যিকারে লেখাপড়া হয়, চলে মেধা প্রতিযোগিতা, ছড়ানো হয় শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো । প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন টেবিল-চেয়ার, প্রধান শিক্ষিকার টেবিলে সাজানো বাংলা-ইংরেজি অভিধান, কলমদানি, ফুলদানি, চারপাশের দেয়ালে টানানো আছে দৃষ্টিনন্দন সুদৃশ্য বিবিধ রকমের পাঠ্য উপকরণ, রয়েছে জাতীয় নেতাসহ বড় বড় মনীষীদের প্রতিকৃতি। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষ রয়েছে কবি- সাহিত্যিকদের নামে যেমন, কবি নজরুল ইসলাম কক্ষ, বেগম সুফিয়া কামাল কক্ষ ইত্যাদি। রয়েছে কাঠের তৈরি বোর্ডে সনওয়ারি বৃত্তিপ্রাপ্তদের নামের তালিকা, আরো আছে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি হার। কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শনে এলে একনজরেই যেন সবকিছু বুঝতে পারেন। গত দশ বছরের হিসাবে দেখা যায় বাউফল আদর্শ প্রাইমারি বিদ্যালয় এক’শটি বৃত্তি, এবং দাশপাড়া মডেলও অনুরূপ সংখ্যক বৃত্তি । গড়ে দু’টি স্কুল প্রতি বছর ১০/১২টি করে বৃত্তি পায়। যা সারা উপজেলার বৃত্তি সংখ্যার ৫০ ভাগ পেয়ে থাকে। এছাড়া দু’টো স্কুলই উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পর্যায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠ স্কুল, শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসাবে পুরস্কৃত হয় । এ বছর বাউফল আদর্শ বিদ্যালয়ের ৮ ছাত্র-ছাত্রী প্রধানমন্ত্রীর শাপলা কাপ সন্মাননা পায়। আলাপ হয় বাউফল আদর্শ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আছমা পারভীন ও দাসপাড়া মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা ইয়াসমিনের সাথে । তারা দু’ জনেই মাস্টার্স ডিগ্রি- প্রথম জন ইংরেজি সাহিত্যে এবং দ্বিতীয় জন ম্যানেজমেন্টে। শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তাদের পদক্ষেপের কথা জানালেন এ প্রতিনিধিকে। সবকিছু মিলিয়ে স্কুল দু’টো মফস্বলে শিক্ষার আলো ছড়াতে এক অনুকরণীয় মডেল