চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আদায়ে ধস

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে লক্ষ্যমাত্রার আড়াই হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। দেশের রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় স্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃক ২০১২-১৩ অর্থ বছরের শেষদিনে রবিবার রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ছিল ২৫ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। অথচ এর পূর্বের তিন অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার বেশি ছিল। কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের মূল্য পড়ে যাওয়া সর্বোপরি বাণিজ্যিক পণ্যসামগ্রী কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। তবে এর সাথে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত এ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সীমাবদ্ধতা এবং রাজস্ব আদায়ে দূরদর্শিতার অভাব ও শুল্কায়নে ধীরগতিও দায়ী বলে অনেকের অভিমত। চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পণ্যের আমদানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ লক্ষ টন কমে গেছে। রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি চট্টগ্রাম বন্দরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। রিকন্ডিশন গাড়ি মংলা বন্দরে খালাস বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিকৃত গাড়ি মংলা বন্দরে এক মাস সময় অতিরিক্ত অবস্থান করলে যে পরিমাণ পোর্ট চার্জ দিতে হয় চট্টগ্রাম বন্দরে তার অনেক বেশি দিতে হয়। এছাড়া পুরান গাড়ি খালাস ও ভ্যালুয়েশনের ক্ষেত্রে অনেক সময় সুবিধা পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কাস্টমসের সংশ্লিষ্টদের মতে গত প্রায় ৪ মাস ধরে ডলারের মূল্য ৮২ থেকে ৮৬ টাকার স্থলে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকার কাছাকাছি। এতে আমদানি পণ্যের শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব কমে গেছে। কাস্টমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিমাসে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২২শ’ থেকে ২৫শ’ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হচ্ছে না। একমাত্র ডলারের অবমূল্যায়নের ফলেই মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে বলে কাস্টমসের যুগ্মকমিশনার মাহমুদুল হাসান দাবি করেন। দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি কমে গেছে। শিল্পপণ্য উত্পাদন ও বাজারজাতকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় কাঁচামালসহ অন্যান্য সামগ্রী আমদানি কমে গেছে। গত ৬ মাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে প্রায় দুই মাস কাস্টমসের কার্যক্রম তথা পণ্য ছাড়করণে প্রতিবন্ধকতা ও স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। অন্যান্য বছরের ন্যায় ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ইলেক্ট্রনিক পণ্যসামগ্রী, খেলনা গাড়িসহ অন্যান্য বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমে গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের শীর্ষপদ থেকে ঊর্ধ্বতন অধিকাংশ পদে অর্থবছরে ব্যাপক পরিবর্তন হওয়াতেও ক্ষেত্রবিশেষে শুল্ক আদায় কম হয়েছে বলে অনেকের অভিমত।