খুলনায় পিকিং পাওয়ার প্লান্ট চালু হচ্ছে এ মাসেই
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৩, ২১:১১
চলতি জুলাই মাসে উত্পাদনে যাচ্ছে নগরীর গোয়ালপাড়াস্থ ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল¬ান্ট কেন্দ্রটি। চালুর পর এ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। কেন্দ্রটির উত্পাদন শুরু হলে খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুত্ ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে নগরীর খালিশপুরের গোয়ালপাড়া এলাকায় প্রায় ৭ একর জায়গা জুড়ে ১৫০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পিকিং পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুত্ কেন্দ্রটির টেন্ডার আহবান করা হয়। সুইজারল্যান্ডের এ্যালোসটোম সুইজারল্যান্ড নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পাওয়ার পর ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট প্রকল্পের কাজ শুরু করে। এ বিদ্যুত্ কেন্দ্রটির নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১৫শ’ ৪২ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির জ্বালানির উত্স গ্যাস ও ডিজেল। গ্যাস না থাকায় আপাতত ডিজেলে চলবে। ডিজেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুত্ উত্পাদনে খরচ পড়বে প্রায় ১৬ টাকা। অপরদিকে গ্যাসে উত্পাদন খরচ পড়বে মাত্র আড়াই টাকা। প্লান্টটিতে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার কথা থাকলেও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
এই প্ল¬ান্টের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ২১ মাসে উত্পাদনে যাবার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী পিকিং পাওয়ার প্ল¬ান্টটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সব ঠিক থাকলে এ মাসের যে কোনদিন উত্পাদন শুরু হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উত্পাদিত বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। গ্যাস না থাকায় বর্তমানে ডিজেল দিয়েই উত্পাদনের কাজ চলবে। এক্ষেত্রে ইউনিট প্রতি খরচ হবে প্রায় ১৬ টাকা বলে সূত্র জানায়।
খালিশপুর পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল¬ান্টটি উত্পাদনে আসলে এর বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। জাতীয় গ্রিডে থেকে জেনারেশন চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন জোনে ভাগ করে দেয়া হবে, যা বিদ্যুত্ ঘাটতি মোকাবিলায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত না হওয়ায় খালিশপুরের ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র দুইটি ওভারহোলিং করা যাচ্ছে না। ওভারহোলিং না করেই গত ২৭ মে ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি চালু হলেও গত ১৭ জুন বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৪ সালে স্থাপনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ৮০৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫২ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছে। ১৯৮৯, ৯৫, ৯৯ ও ২০০০ সালে চারবার ওভারহোলিং হলেও সর্বশেষ ওভারহোলিংয়ের পর এ কেন্দ্রটি ৪৯ হাজার ৮৩৬ ঘণ্টা চালুর পর বন্ধ হয়। অথচ ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ঘণ্টা চালানোর পর ওভারহোলিং করার পরামর্শ রয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ম্যানুয়ালে। ফার্নেশ অয়েলনির্ভর এই কেন্দ্রটি ওভারহোলিং না করায় এর যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে।
খুলনা বিদ্যুত্ কেন্দ্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক সরদার মনিরুজ্জামান বলেন, ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র দুইটি ওভারহোলিংয়ের বিকল্প নেই। এর যন্ত্রপাতিগুলো দুর্বল হয়ে গেছে।