জিএসপি প্রত্যাহার করে বাংলাদেশকে শাস্তি দেয়া হয়েছে
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৫
বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা স্থগিত করাকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনের বিজয় হিসেবে দেখছে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ‘পানিশিং বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশকে শাস্তি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে পত্রিকাটি বলেছে, ওবামা প্রশাসন শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী বাংলাদেশকে পেয়েছে শাস্তি দেয়ার জন্য। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের রপ্তানির সামান্য অংশের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল করেছে।
রিপোর্টে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিনিধি মিশেল ফোরম্যান বলেছেন, সুবিধা প্রত্যাহারের মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং কাজের যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে বিজয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও’র।
রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া জিএসপি সুবিধার বাইরে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মোট ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক। বাংলাদেশের পোশাক আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে থাকে। এ শুল্ক বহাল থাকলে বাংলাদেশের মালিকদের পক্ষে কারখানার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এছাড়া জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করায় পোশাকের বাইরের পণ্যগুলো রপ্তানি তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। এর ওপর আগামীদিনগুলোতে এসব কারখানা মালিককে শিল্পের নিরাপত্তা খাতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, বস্ত্রখাতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে ওয়াশিংটন উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিল্প উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। আর বাংলাদেশ যদি এ সুবিধা পায়, তাহলে দেশটির শিল্পায়ন আরো দ্রুত হবে। আর শুল্কমুক্ত সুবিধা না দেয়ার মানে হচ্ছে শ্রমমানের উন্নত না করার জন্য বাংলাদেশকে শাস্তি দেয়া।