সিম্পলি সোনম

সোনম কাপুরকে নিয়ে বলিউডে এখন বেশ আলোচনা হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে মুক্তিপ্রাপ্ত রোমান্টিক ড্রামা ধাঁচের ছবি ‘রান্ঝানা’য় তার চমত্কার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পাশাপাশি সমালোচকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি। সবার অভিমত, অভিনেত্রী হিসেবে সোনমের অনেক উত্তরণ হয়েছে। যার প্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক ছবি ‘রান্ঝানা’য়। ছবিটির বক্স অফিস সাফল্য সোনমকে উদ্দীপ্ত করেছে সন্দেহ নেই। এ ছবির সাফল্যের রেশ না কাটতেই তার অভিনীত আরও একটি বহুল আলোচিত, প্রতীক্ষিত ছবি ‘ভাগ মিল্খা ভাগ’ আসছে আগামী সপ্তাহে। সোনম কাপুরের সাম্প্রতিক দুই ছবি নিয়ে তার একান্ত অনুভূতি, ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তাভাবনা, ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন রেজাউল করিম খোকন ভারতের বানারাস শহরের একটি মেয়ে। নাম তার জয়া হায়দার। বুদ্ধিমতী, ভদ্র, নম্র, অধিকার সচেতন মেয়ে হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। একই এলাকার ছেলে কুন্দন তাকে ভালোবাসে। ব্যাপারটি একসময় দুই তরফা থাকলেও জয়া উচ্চতর পড়াশোনার জন্য দিল্লি যাওয়ার পর তার মন-মানসিকতা বদলে যায়। কুন্দনের এক তরফা ভালোবাসা জয়ার জন্য বিড়ম্বনা হয়ে ওঠে। কারণ ততদিনে জয়া দিল্লিতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠী ছাত্রনেতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। বানারাসে ফিরে এলে এলাকার ছেলে হিসেবে জয়া কন্দনকে সব কথা খুলে বলে এবং তাকে সাহায্য করতে বলে। এরপর অনেক নাটকীয় চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে ‘রান্ঝানা’ ছবির গল্প চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। এ ছবিতে বানারাসের সাদামাটা ধরনের এক মুসলিম তরুণী জয়া হায়দারের চরিত্রে দেখা গেছে সোনম কাপুরকে। ‘রান্ঝানা’ বক্স অফিসে তোলপাড় সৃষ্টিকারী ব্যাপক সাফল্য না পেলেও হিট ছবি হিসেবে উতরে গেছে। ১০০ কোটি রুপি ক্লাবে ঢুকতে না পারলেও ইতোমধ্যে ছবিটি ৪০ কোটি রুপি ব্যবসা করেছে। এ ছবিতে দক্ষিণী সিনেমা জগতের তরুণ সুপারস্টার অভিনেতা এবং গায়ক ধানুসের বিপরীতে এক মুসলিম তরুণীর চরিত্রে সোনম কাপুরের প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শকদের ভীষণভাবে আলোড়িত করেছে। এখন সবার মুখে মুখে সোনমকে নিয়ে আলোচনা চলছে। ব্যাপারটি তাকেও দারুণ স্পর্শ করেছে। ‘আমি বেশ নার্ভাস ছিলাম, অনেক ভয়ে ভয়ে ছিলাম ‘রান্ঝানা’ নিয়ে, কিন্তু আমার সেই ভয় দূর হয়েছে। এ ছবিতে আমরা যারা কাজ করেছি সবার ভাগ্যে প্রশংসা ও সাফল্য জুটেছে। কারও বদনাম বা নিন্দা জোটেনি। আমি এ জন্য খুব খুশি’, সোনম উচ্ছ্বাসিত হয়ে বলেন। এখন বলিউডে ১০০ কোটি রুপি ক্লাবে ঠাঁই পাওয়ার স্বপ্ন দেখে প্রায় সব ছবিই। ‘রান্ঝানা’ সেভাবে বক্স অফিস কাঁপাতে পারেনি। কিন্তু তাতে কোনো আক্ষেপ বা অসন্তুষ্টি নেই সোনমের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১০০ কোটি রুপি ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত হতেই হবে তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ‘রান্ঝানা’ সব শ্রেণীর দর্শক সাদরে গ্রহণ করেছে, সবার বেশ ভালো লেগেছে ছবিটি এটাই হলো বড় কথা। আমার অভিনীত ছবিটিকে বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসা সফল ছবি হিসেবে বিবেচিত হতে হবে তেমন চিন্তাভাবনা করি না। আমি চাই আমার অভিনীত ছবিটি সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখুক। আমার ছবিটি যদি সবার ভালো লাগে আমার অভিনয় যদি প্রশংসিত হয়—এর চেয়ে আর বেশি কী চাওয়া হতে পারে আমার? আমার কাছে এটাই হলো বড় কথা।’ ‘রান্ঝানা’ ছবিতে তার অভিনয় দেখে বাবা অনিল কাপুরও অনেক খুশি। মেয়ে অভিনয়ে আরও পরিপক্ব হয়েছে উপলব্ধি করছেন তিনি। এ জন্য গর্ব অনুভব করছেন অনিল কাপুর। বাড়িতে বোন এবং কাজিনরা সোনমের পারফর্মেন্সের প্রশংসা করেছে। এতসব প্রশংসা আর উচ্ছ্বাস তাকে উদ্দীপ্ত করছে পাশাপাশি ইমোশনালও করে তুলছে। ‘সাওয়ারিয়া’ ছবি দিয়ে যাত্রা শুরুর পর হাঁটি হাঁটি পা পা করে সোনম ইতোমধ্যে বেশ অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছেন। গত পাঁচ-ছয় বছরে তার যে ক’টি ছবি মুক্তি পেয়েছে এর মধ্যে কোনোটিই বড় ধরনের সাফল্যের চমক দেখাতে পারেনি। তবে ‘সাওয়ারিয়া’, ‘দিল্লি সিক্স’, ‘আয়শা’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘মৌসুম’ ছবিগুলোতে সোনম চমত্কার অভিনয় করেছেন এটা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন। পর্দায় সাদামাটা মেয়ের রোলেই তাকে দেখা গেছে বেশি। বলিউডের সবচেয়ে স্টাইলিশ অভিনেত্রী হিসেবে তার বিশেষ পরিচিতি থাকলেও সোনম বরাবরই রুপালি পর্দায় অভিনীত চরিত্রটির যথার্থ সাজসজ্জায় উপস্থিত হয়েছেন। ‘রান্ঝানা’ ছবিতে একজন সাদামাটা কলেজ গার্লস সাজতে গিয়ে উগ্রতার আশ্রয় নেননি। বাস্তবতার সাথে নিজেকে যতটা সম্ভব মিল রাখতে চেয়েছেন। এর আগেও ‘দিল্লি সিক্স’, ‘মৌসুম’ প্রভৃতি ছবিতেও সোনম নিজেকে যতটা সম্ভব ‘সিম্পল’ রাখার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে নিজের গ্ল্যামারাস লুকটাকে প্রাধান্য না দিয়ে ব্রিলিয়ান্ট পারফর্মেন্সের অর্থাত্ মেধাদীপ্ত অভিনয়টাকে বেশি গুরুত্ব দিতে সচেষ্ট থেকেছেন। আগামী সপ্তাহে সোনমকে আবার দেখা যাবে বহুল আলোচিত ছবি ‘ভাগ মিল্খা ভাগ’ ছবিতে। এ ছবিতে ফারহান আখতারের বিপরীতে আবারও সাদামাটা এক তরুণীরূপে দর্শকদের সামনে আসছেন তিনি। জীবন্ত কিংবদন্তি প্রখ্যাত অ্যাথলেট মিলখা সিংয়ের বাস্তব জীবনের নানা ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে ফারহান আখতারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন সোনম। ‘ভাগ মিল্খা ভাগ’ ছবিতে নিজের অভিনীত চরিত্রটি তেমন বড় না হলেও এ ছবিতে কাজ করতে পেরে ভীষণ আনন্দিত তিনি। ‘আমি এ ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছি কয়েকটি কারণে। কারণ ছবিটির স্ক্রিপ্ট দুর্দান্ত, আমি আপ্লুত হয়েছি স্ক্রিপটি পড়তে গিয়ে, কান্না চেপে রাখতে পারিনি। আমার অভিনীত চরিত্রটি তেমন বড় না হলেও ক্ষতি নেই। আমি পরিচালক রাবেশ ওম প্রকাশ মেহরার সঙ্গে আবার কাজ করতে চাইছিলাম। এর আগে তার ‘দিল্লি সিক্স’ ছবিতে অভিনয় করে অনেক ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি ফারহান আখতারের মতো একজন মেধাবী ও বহু গুণের অধিকারী মানুষের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি এ ছবিতে। আমি ফারহান আখতারের বড় ফ্যান অনেক আগেই থেকেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার ভার্সেটাইলিটি আমাকে আকৃষ্ট করে। ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ ছবিতে ফারহান আখতারের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য হয়েছি। তার সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা সারা জীবন আমাকে আলোড়িত করে যাবে’, সোনম বলেন। একটি ভালো ছবিতে ছোট্ট রোলে অভিনয় করতে পারাটাকে সৌভাগ্য বলে মনে করছেন তিনি। নিজেকে স্পষ্টবাদী মেয়ে দাবি করে সোনম কাপুর বলেন, ‘আমি মনে মনে যা ভাবি এবং বিশ্বাস করি তাই মুখেও বলি, বলিউডের সব নায়িকারা বেশ কৌশলী হয়ে কথা বলেন। অনেক সময় অনেক কথার জবাব দেন না, নীরব থাকতে চান। এটা ঠিক নয়। এখন সময় বদলেছে, সমাজও বদলে যাচ্ছে, বলিউডকে বদলে যেতে হবে। সিনেমা হলো সমাজের দর্পণ, সিনেমা সমাজকে পরিচালনা করতে পারে না, তবে সমাজের পুরো চিত্রটাই সিনেমার পর্দায় তুলে ধরা হয়।’ আগামীতে ছবি পরিচালনায় আসছেন সোনম। তেমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে আসার আগেই আমি ছবি পরিচালনার কাজে হাতে খড়ি নিয়েছি সঞ্জয়লীলা বানসালির কাছে। আমি আগামী আট থেকে দশ বছরের মধ্যে ছবি পরিচালনায় আসতে চাই। আমি নিজেকে অভিনয়ের বাইরে ভিন্ন একটি ক্ষেত্রে নিয়োজিত করে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে চাই। সৃজনশীল কাজে আমি বেশ মজা পাই।’