গানে গানে গল্প

টেইলর সুইফটের চতুর্থ অ্যালবাম, ‘রেড’। ‘রেড’ অ্যালবামের প্রতিটা গান নিয়েই সুইফটভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। কারণ টেইলর তার প্রতিটি গানে তুলে আনেন নিজেরই কোনো গল্প। সেই গল্পগুলোর কিছু বিচ্ছিন্ন অংশ নিয়ে কিছুদিন আগে গ্ল্যামার ম্যাগাজিনের কাছে মুখ খুলেছেন টেইলর সুইফট। সে কথাই লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম নতুন অ্যালবাম ‘রেড’ নিয়ে নানা প্রশ্ন সবার মধ্যে। এরমধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল এমন, ‘ডিয়ার জন’ গানটা কি আসলে জন মেয়ারের উদ্দেশে লেখা? আর এর পরই দমকা হাওয়ার মতো কিছু কথা এক দফায় বলে যান তিনি, ‘আমি এ ব্যাপারে নিজের কোনো সাফাই দিতে চাই না। গানটি যদি কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকে তাতে আমার কিছু করার নেই। গানটা কিছু মানুষের মনে আঘাত দিতে পারে, কিন্তু এখানে আমি কী করতে পারি? আমি গানটি লিখেছি নিজেকে তৃপ্ত করার জন্য। আমার কাজ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট এবং খুশি। তাই এর পরের সমালোচনাগুলোয় কান দিতে চাই না।’ পুরোনো প্রেমিকের কথা না বলতে চাইলেও, সুইফট মুখ খুলেছেন তার নতুন প্রেমিক কনর কেনেডিকে নিয়ে। গ্ল্যামার ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি সরাসরি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলি না। ব্যক্তিগত জীবনের অনেক গল্প উঠে আসে আমার গানের মধ্য দিয়েই। এবারের অ্যালবামেও আমি এমন কিছু গান লিখেছি, যা আমার বর্তমানের গল্প বলে। শুনলে সবাই বুঝবে এখন আমার সময়টা কেমন কাটছে।’ বাজারের আসার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই পপ তারকা টেইলর সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘রেড’-এর ১২ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। এর মাধ্যমে গত এক দশকে কম সময়ে বিশাল সংখ্যক অ্যালবাম বিক্রির রেকর্ড গড়ল সুইফটের এ অ্যালবাম। বিষয়টি নিয়ে ৩০ অক্টোবর রাতে সুইফট টুইট করেন, ‘আমি সদ্য জানতে পারলাম প্রথম সপ্তাহেই ‘রেড’-এর ১২ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। আমার ভক্তদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’ এর আগে লেডি গাগার ‘বর্ন দিস ওয়ে’ অ্যালবামটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ২০১১ সালে ওই অ্যালবামটির ১১ লাখ কপি বিক্রি হয়। উল্লেখ্য, সুইফটই হলেন একমাত্র নারী পপ তারকা যার দুইটি অ্যালবাম মুক্তি পাওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রির সৌভাগ্য অর্জন করেছে। এর আগে ২০১০ সালে টেইলরের ‘স্পিক নাও’ অ্যালবামটিও প্রথম সপ্তাহে বিক্রির রেকর্ড করেছিল। সুইফটের পরিচয় টেইলর অ্যালিসন সুইফট একজন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মার্কিন কান্ট্রি সংগীত শিল্পী, রেকর্ড প্রযোজক এবং অভিনেত্রী। ২০০৬ সালে টেইলর সুইফট তার প্রথম গান ‘টিম ম্যাকগ্র’ প্রকাশ করেন, এরপর প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘টেইলর সুইফট’, যা রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা কর্তৃক প্লাটিনাম প্রত্যয়ন পায়। ২০০৮-এর নভেম্বরে টেইলর সুইফট তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ফিয়ারলেস’ প্রকাশ করেন। ২০০৮-এর শেষে ‘ফিয়ারলেস’ ও ‘টেইলর সুইফট’-এর বিক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় যথাক্রমে ২.১ এবং ১.৫ মিলিয়ন। ‘ফিয়ারলেস’ অ্যালবামটি বিলবোর্ডে ১১ সপ্তাহ ধরে (ধারাবাহিকভাবে নয়) শীর্ষস্থান দখল করেছিল, যা কোনো অ্যালবাম ২০০০ সালের পর পারেনি। আমেরিকার ফোর্বস ম্যাগাজিনের র্যাঙ্কিংয়ে সুইফটের অবস্থান ছিল ৬৯তম শক্তিমান তারকা, যার আয়ের পরিমাণ ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে বিলবোর্ড সুইফটকে বর্ষসেরা শিল্পীর খেতাব প্রদান করে। ‘ফিয়ারলেস’ ২০১০ সালের বর্ষসেরা অ্যালবাম হিসেবে গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করে। ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যালবামগুলো সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৪০ লক্ষ কপি বিক্রি হয়, যা তাকে নিলসেন সাউন্ডস্ক্যানের জরিপ অনুসারে সে বছরে সবচেয়ে বেশি বিক্রিপ্রাপ্ত মার্কিন সংগীতশিল্পীর মর্যাদা দেয়। আর এ সমস্ত ইতিহাস এ সম্ভাবনার কথা বলে যে ‘রেড’ অ্যালবামটিও টেইলর সুইফটকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।