চিঠি
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯:০০
ব্যক্তি জীবনের পাওয়া না-পাওয়া ও হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের মাঝেও যে কিছু না কিছু প্রাপ্তি মেলে তা নিয়ে নির্মিত হলো নাটক ‘চিঠি’। রুদ্র মাহফুজের রচনা ও বি ইউ শুভ’র পরিচালনায় সম্প্র্রতি উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে এই নাটকের শুটিং হয়েছে। এর লোকেশন ঘুরে এসে লিখেছেন অজেয় চৌধুরী
আকাশে মেঘের ঘনঘটা, মৌসুমি বৃষ্টিতে কিছুটা স্থবির নাগরিক জীবনে তবুও থাকে জীবনের কোলাহল। আকাশের মতোই অপূর্বের চোখে বৃষ্টির কান্না আর গভীর আগ্রহে তার দিকে হাত বাড়িয়ে আছে রোমানা। কিছুটা সংশয়, কিছুটা বিস্ময়ের মাঝে তাকিয়ে আছে দুজন, যেন জীবনের সেই মুহূর্তের কাছাকাছি যাওয়ার আনন্দ অনুভূতিকে স্পর্শ করার মাহেন্দ্রক্ষণ। যার জন্য অপেক্ষায় থাকে প্রত্যেক তরুণ-তরুণী। ভালোবাসার জন্য তাই তো এত আকুলতা অপূর্ব-রোমানার মাঝে। ‘চিঠি’ নাটকের শেষ দৃশ্যে এমনই কাহিনীর অবতারণা ঘটল। সম্প্রতি রুদ্র মাহফুজের রচনা ও বি ইউ শুভর পরিচালনায় ঈদের জন্য নির্মিত হলো এক ঘণ্টার নাটক ‘চিঠি’। নাটকটির অপু চরিত্রে অপূর্ব ও মীরার ভূমিকায় দেখা যাবে রোমানাকে। এ ছাড়াও নাটকটিতে অভিনয় করেছেন ড. ইনামুল হক। টানা তিনদিন ঢাকার মিরপুর, ডিওএইচএস ও উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে ‘চিঠি’ নাটকটির শুটিং করা হয়েছে। নাটকটির গল্পে দেখা যাবে অপুর বয়স ৩০ ছুঁই ছুঁই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেকার। একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে আরও দুজনের সাথে শেয়ার করে থাকে সে। অপু গ্রামের সাধারণ দরিদ্র চাষির সন্তান হলেও সে সবার কাছে পরিচয় দিয়ে বেড়ায় তার বাবা-মা আমেরিকা প্রবাসী। তার আত্মীয়স্বজন কেউ লন্ডন, কেউ অস্ট্রেলিয়া আবার কেউবা সুইজারল্যান্ডে থাকে। অপু লুকিয়ে পাঁচটি টিউশনি করে, সেখান থেকে আয়ের একটি অংশ গ্রামের বাড়িতে থাকা দরিদ্র পিতা-মাতার কাছে পাঠায়। তার রুমমেট দুজন অপুকে ধনীর দুলাল বলে সমীহ করে। অপু ফুটপাত থেকে জামাকাপড় কিনে এনে বলে, তার দূর সম্পর্কের এক মামা দিয়েছে, যিনি একজন বিজনেস ম্যাগনেট। অনেক দিন পর তার বাড়িতে অপু গিয়েছিল আর দেখা হওয়ার পর যখনই বলেছে, মামা শার্টটা তো দারুণ তখন সাথে সাথে তার আদরের ভাগ্নেকে খুলে দিয়ে দিয়েছে! জিন্স, টিশার্ট কতকিছু দিল! আর অপুও মামা বলে ‘না’ বলতে পারিনি। এভাবে অপু অসংখ্য মিথ্যের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। লন্ড্রি থেকে ভাড়ায় শার্ট-প্যান্ট নেওয়া, জমির দালালি করা, দামি গাড়ির ড্রাইভারকে ম্যানেজ করে বাসার সামনে নিয়ে আসা। যে বাড়িটিতে অপু থাকে তার মালিক বিপত্নীক সোবাহান সাহেব অপুকে তার তথাকথিত আভিজাত্যের জন্য বিশেষ পছন্দ করেন। তার একমাত্র কন্যা মীরা, তার ইচ্ছা মীরা অপুর সাথে মিশুক, পরস্পরকে ভালোবাসুক। কারণ বিশাল ধনীর দুলাল অপু একদিন না একদিন পৈতৃক সূত্রে তাদের দেশ-বিদেশের সমস্ত সম্পত্তির মালিক হবে। অপু ভাব দেখায় এসব তার একদম পছন্দ না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে খুব খুশি হয় এই ভেবে যে, মীরাকে বিয়ে করতে পারলে তাদের বাড়িটা কব্জা করা যাবে। মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, দেখতে সুদর্শনা ও আকর্ষণীয়। অপুকে তার পছন্দ হলেও অতি ধনীর গৌরব মীরাকে আহত করে বারবার। বাবার অতি আগ্রহে অপুর সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে যায় মীরা। সেখানেও অপু টাকা না দেওয়ার চালাকি করে। বলে কোনো ক্রেডিট কার্ডই আজ ভুলে আনেনি। এর মধ্যে অপুর বেশিরভাগ টিউশনি চলে যায়। তিন মাস ধরে ফ্ল্যাটের ভাড়া ও গ্রামের বাড়িতে টাকা দিতে পারে না। এই নিয়েও তার রুমমেটদের সাথে নানান মিথ্যার গল্প ফাঁদে। কিন্তু হঠাত্ একটি চিঠি বদলে দেয় সবকিছুকে। ঈদের এই নাটকটি প্রসঙ্গে পরিচালক বি ইউ শুভ বলেন, ‘এখানে ব্যক্তি জীবনের পাওয়া না-পাওয়া ও হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের মাঝেও যে কিছু না কিছু প্রাপ্তি মেলে তা নাটকের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে দারিদ্রতা লজ্জার নয় বরং পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তা থেকে মুক্তি সম্ভব। নাটকে অপূর্ব ও রোমানা খুব ভালো অভিনয় করেছেন এবং আমি আশাবাদী নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ উল্লেখ্য, আসছে ঈদে নাটকটি একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত হবে।