রিচি সোলায়মান
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯:১৩
অভিনয় নিয়েই সারাবেলার ব্যস্ততা তার। সময়ের পালাবদলে তার কাজের ক্ষেত্র, পরিধি এবং ধারাও কিছুটা বদলে গেছে। নাটকের চরিত্রকে বুঝে নেওয়ার তাগিদে চরিত্রায়াণের অর্ন্তনিহিত গল্পও খুঁজে ফিরেন তিনি। শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভেঙে আবার গড়েছেন, এর মাধ্যমেই চরিত্রের সঠিক তত্ত্ব তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। বলছিলাম জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান সম্পর্কে। আনন্দ বিনোদন-এর নিয়মিত আয়োজন পাঁচ প্রশ্ন বিভাগে রিচি তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ বলেছেন কিছু ভাবনার কথা। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার
কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা?
শুধু পজেটিভ-নেগেটিভ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আমি বিশ্বাসী না। আমি ভালো আছি, আমি ভালো কাজ করছি, আমি ভালো অনুভব করছি, সদা হাস্যোজ্জ্বল আছি—এটাই আমার জীবনের মূল বিষয়। তারচেয়েও বড় বিষয় আমার পরিবার, আমার সকল সুখের আধার। আর বরাবরই কাজের ক্ষেত্রে আমি অনেক পরিমিত। কাজটা ভালোবেসেই করতে চাই।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমানে অনেকগুলো ধারাবাহিকে কাজ করছি। আর দুয়েকটি একক নাটকে কাজ করার কথা চলছে। ঈদের খুব বেশি কাজে হাত দিইনি। তবে দুয়েকটি নাটকে অবশ্যই আসছে। মূলত দর্শক আমাকে যেমন দেখতে চায় তেমনভাবেই আমি তাদের সামনে উপস্থিত হই। কাজ নিয়ে কখনও নিজের মাঝে অস্থিরতাবোধ করেনি আমি, কাজটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাই আমার মাঝে সবসময় তাড়া করে।
কোন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
আমি সবধরনের চরিত্রেই কাজ করতে পছন্দ করি। তবে পছন্দ বলতে গেলে আমি যা না সেই চরিত্রেই অভিনয়টা বেশি উপভোগ করি। যে চরিত্রে ‘তোমার হচ্ছে না’ টাইপের কোনো কিছু থাকে তাকেই আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করি। চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তর করাটা একটা নেশা বলতে পারেন। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোতে, সে ক্ষেত্রে আমাদের নাটকগুলোও অনেকবেশি জীবনঘনিষ্ঠ।
নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।
প্রায়ই দেখা যায় নাটকের টাইটেল দেখানোর পরই শুরু হয়ে গেছে বিজ্ঞাপন। এ দেখে মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমরা দর্শকদের নাটক দেখাতেই চাই না। এই বাড়াবাড়ির কারণে দর্শকরাও বিদেশি চ্যানেলে ঝুঁকে পড়তে বাধ্য হয়। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় চ্যানেলগুলোর হাতেই আছে। তারা চাইলেই পুরো বিষয়টিকে একটি এমন ফরম্যাটে নিয়ে আসতে পারে যাতে দর্শক আর বিরক্ত না হয়।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
দেশের যেকোনো আনন্দে আমি উদ্বেলিত হই, যেকোনো কষ্টে আমি ভারাক্রান্ত হই। সর্বোপরি দেশের বিদ্যমান যেকোনো পরিস্থিতি আমাকে ভাবিয়ে তোলে, প্রচণ্ড নাড়া দেয়। দেশটা তো নিজেদের তাই এর সংরক্ষণ ভারও কিন্তু নিজেদের উপরেই বর্তায়।