বরিশালে রমজানকে সামনে রেখে চলছে পণ্য মজুদ

রমজান মাসকে সামনে রেখে এখানকার আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে বাসা-বাড়ি ভাড়া করে মালামাল মজুদ শুরু করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মজুদদারদের অপতত্পরতায় দ্রব্যমূল্য বাড়তে শুরু করেছে। রমজানে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাদের ইচ্ছামাফিক বিক্রির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবি’র কার্যক্রম আরো জোরদার করতে না পারলে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না বলে আশংকা করছেন খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা। এ বিভাগের ৬ জেলাসহ মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা নিয়ে ৮ জেলায় টিসিবি’র বর্তমানে ডিলার রয়েছেন ১৪৩ জন। এদের মধ্যে গতকাল বুধবার পর্যন্ত পণ্য উত্তোলন করেছেন মাত্র ৯ জন ডিলার। ডিলাররা পণ্য উত্তোলন না করার ব্যাপারে জানান, এ বছর টিসিবি’র পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় তারা পণ্য উত্তোলন করছেন না। আসন্ন রমজানে টিসিবির মাধ্যমে নেয়া সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার আশংকা করছেন অনেকেই। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশংকা করে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ইতিমধ্যেই চিনি ও পিঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বেশ চড়া হয়ে উঠেছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের রমজান মাসে ফাঁদে ফেলতে অসত্ ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ শুরু করেছেন শবে-বরাতের আগে থেকেই। মজুদকৃত পণ্য রাখার জন্য তারা নগরীতে বাসা-বাড়ি কিংবা গুদাম ভাড়া করেছেন। পণ্য মজুদের কথা স্বীকার করলেও ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা অসত্ উদ্দেশ্যে নয়, রমজানে যে কোনো পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। ভোক্তার চাহিদা পূরণের জন্যই তারা মালামাল সংগ্রহ করছেন। গত ৩ বছর ধরে রমজানে চিনি নিয়ে টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় চিনি বেশি মজুদ করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ কারণেই এবার চিনির মূল্য আগেভাগে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার ঘুরে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শবে-বরাতের পর পরই খাতুনগঞ্জে চিনির মূল্য বৃদ্ধি পায়। তাই তারাও শংকায় রয়েছেন চিনির মূল্য নিয়ে। বাজার মূল্য না বাড়লেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফা লুটতে পারেন। বর্তমানে এখানকার খুচরা বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০ টাকা দরে। কিছু দিন আগেও চিনি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকায়। গত রমজানে চিনি বিক্রি হয়েছিল ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। সয়াবিন তেলের দাম গত রমজানে বেড়ে ১৩০ টাকায় উঠেছিল তা আর তেমন কমেনি। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। কিছুদিন আগেও সয়াবিন তেল বিক্রি হতো ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। রমজানে সয়াবিন তেলের দাম কত টাকা হবে তা বলা যাচ্ছে না। এর মূল্য বৃদ্ধির আশংকা করছেন খুচরা বিক্রেতারা। মসুরির ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ৯৫ টাকায়। টিসিবি’র পণ্য উত্তোলনকারী ডিলাররা জানান, টিসিবি থেকে চিনির মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা। সয়াবিন তেল ১০৮ টাকা। কিন্তু এসব পণ্যের মান খুবই নিম্নমানের হওয়ায় তারা তা উত্তোলন করে খুচরা বা পাইকারি বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না। বিশেষ করে প্রতি রমজানে খেজুরের সাথে ছোলা, মুশুরির ডাল ও চিনির কদর বেড়ে যায়। তখন পণ্যের বাজার বেসামাল হয়ে উঠে। রোজা শুরু হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি, তবুও এবার বেশিরভাগ ডিলার পণ্য উত্তোলন না করায় মজুদদার পাইকার কালোবাজারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ডিলাররা পণ্য না তুলে ঘরে বসে থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বসে নেই। তারা পণ্য মজুদ করার পাশাপাশি রমজানে ক্রেতাদের জিম্মি করতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করতে নানা কৌশল নিয়ে ব্যস্ত। ফলে বেড়েই চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।