এসএসসির পরই বিমান ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২১:২৪
এসএসসি পাশের পর বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ
এসএসসি বা ও-লেভেল উত্তীর্ণ হওয়ার পর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ৪ বছরে ডিপ্লোমা করা যায়। কিন্তু বিটিইসি এডেক্সেল অনুমোদিত সার্টিফিকেটে মাত্র ১৮ মাসে এনডি (ন্যাশনাল ডিপ্লোমা) ও ১৮ মাসে এইচএনডি (হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা) সম্পন্ন করে বিমানের ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় এবং দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। অর্থাত্ আমাদের দেশি ডিপ্লোমার তুলনায় অনেক কম সময়েই ভালো কাজের সুযোগ রয়েছে এই সার্টিফিকেট অর্জনের পর।
উড়োজাহাজের ব্যবহার যেমন দিন দিন বাড়ছে, তেমনি উড়োজাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদাও বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণ করতেই প্রয়োজন উড়োজাহাজের জন্য বিশেষ প্রকৌশলী। এই বিশেষায়িত প্রকৌশলীদেরই বলা হয় এএমই বা এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার।
এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার কিংবা এভিয়েশন সেক্টরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানার্জন ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ। এএমই লাইসেন্সপ্রাপ্তি বা এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা ও অন্যান্য ডিগ্রিপ্রাপ্তদের চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়েই। একজন এএমই যেমন বিমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করেন, তেমনি এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা ও ডিগ্রিধারীরা এভিয়েশন সেক্টরে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অবদান রাখার সুযোগ পান। বিমানের যাবতীয় প্রকৌশলগত তথা যেকোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতির মেরামত বা সংশোধন ছাড়াও, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিদর্শন কার্যসম্পন্নপূর্বক বিমানকে সার্বিকভাবে কার্যোপযোগী বা উড্ডয়নোপযোগীর দ্বায়িত্ব পালন বিমান প্রকৌশলীদের উপরই ন্যস্ত। ইঞ্জিনিয়ারদের স্বাক্ষরিত সনদের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেই পাইলট নিরাপদে ভ্রমণ ও গন্তব্যে যাত্রা করেন।
এসএসসি বা ও-লেভেল শেষ করে ৩ বছরে এনডি ও এইচএনডি করার পর ১ বছরে করা যায় টপ-আপ কোর্স। এর মাধ্যমে অর্জন করা যায় অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং/বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি। আবার এইচএসসি বা এ-লেভেল শেষ করে সরাসরি ৪ বছরের বিএসসি ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি অর্জন করা যায়। স্বল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে কোর্সগুলো সম্পন্ন করা যায় বলে কোর্সগুলো আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। আবার এসব কোর্স করার সময় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগও রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাড়াও ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে এসব কোর্স করা দক্ষ জনবলের রয়েছে চাহিদা। অনেক ক্ষেত্রেই পড়ালেখা শেষ করার আগেই চাকরির অফার পাওয়া যায়। এসব চাকরির বেতনও হয় মানসম্পন্ন। ০১৯৭০৩০৬০৯২, ০১৯৭০৩০৬০৯৯ নম্বরে ফোন করে এই কোর্সের পড়ালেখা এবং কাজের সুযোগ সম্পর্কে আরও তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
এয়ারলাইন্সের এসব চাকরিতে সফল হওয়ার জন্য একদিকে যেমন প্রয়োজন কাজের দক্ষতা, পাশাপাশি প্রয়োজন সততা, ধৈর্য, অধ্যবসায় প্রভৃতি গুণাবলী। আর টিমওয়ার্ক এই পেশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই পেশাগুলোর অন্যতম বড় একটি আকর্ষণ হচ্ছে নিয়মিত বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ, যা অন্যদের কাছ ঈর্ষার বিষয়।
বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধিভুক্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ইউনাইটেড কলেজ অব এভিয়েশন, সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। এখানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্রিটিশ শিক্ষাবোর্ড (BTEC Edexcel), নিউপোর্ট ইউনিভার্সিটি সিইডি-লাটভিয়া, আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া, আমেরিকা, চীন, জার্মানি প্রভৃতি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের স্বীকৃত অনেক কোর্সই করানো হয়ে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাস। এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ সুবিধা, ওয়াই-ফাই জোন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সমৃদ্ধ ল্যাব ও লাইব্রেরি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিদেশি বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা, ডিসি ১০ বিমানের সিএফ-৬ ইঞ্জিন ও বিমানের যন্ত্রাংশ সমৃদ্ধ ল্যাব, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, বাংলাদেশ ফ্লায়িং ক্লাবের সাথে ওজেটি প্র্যাকটিক্যালের সুবিধা প্রভৃতি।
যোগাযোগ :বাড়ি-১৬, রোড-৪, সেক্টর-৩, উত্তরা, ঢাকা।