সিলেটে পাথর উত্তোলনে হরদম বোমা মেশিন
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন কাজে অবৈধ বোমা মেশিনের ব্যবহার চলছেই। অভিযোগ মতে, পুলিশের মধ্যস্থতায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দৈনিক পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে একেকটি বোমা মেশিন চালাতে সহায়তা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে তা অচিরেই ঠেকানো না গেলে সিলেট অচিরেই বিরাণ মরুভূমিতে পরিণত হবে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভারত সীমান্তের বিশাল খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে দেশের বৃহত্তম ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে অবৈধ বোমা মেশিন দিয়ে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন চলছে। বিরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রবহমান পাহাড়ি ধলাই নদী অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের অদূরে বুরদেওসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কয়েক কিলোমিটার নদী মরে গেছে। একই কারণে জাফলং-এর পিয়াইন নদীও হারিয়ে যাচ্ছে।
শুধু নির্বিচার পাথর উত্তোলন নয়, সিলেটে চলছে অবাধে পাহাড় নিধন। পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কয়েকবার অভিযান চালালেও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি।
অবৈধ বোমা মেশিন ব্যবহার বন্ধের দাবিতে গত শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন কোম্পানীগঞ্জের লোকজন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
তারা বলেন, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বোমা মেশিন দিয়ে ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তোলন না করতে হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। তারপরও সরকারি দলের লোকজনের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পাথর উত্তোলনে বোমা মেশিন নামিয়েছে। এসব বোমা মেশিন থেকে স্বার্থান্বেষী মহল ও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বোমা মেশিনে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। পাশাপাশি কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করে কয়েক লাখ শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ সমপ্রতি বোমা মেশিন দ্বারা পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র বোমা মেশিন থেকে চাঁদা আদায় করে সংশ্লিষ্টদের সুযোগ করে দিচ্ছে। গত বছর এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুর্বৃত্ত চক্রের হাতে নিহত হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জইন উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, এসবের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা ও হামলা চালানো হয়। কিছুদিন আগেও উপজেলা চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী প্রতিবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ চক্রের হাতে তিনি লাঞ্ছিত হন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে গত ২৭ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আফ্তাব আলী বলেন, ‘ভোলাগঞ্জে যে হরিলুট চলছে, তা কে বন্ধ করতে পারবে জানি না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে নির্মল প্রকৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।’
পাহাড় কাটা চলছেই:সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংলগ্ন ন্যাচারাল পার্ক ঘেঁষা বাইশটিলা এলাকার একটি টিলা কাটা চলছে। টিলা কেটে তৈরি করা হচ্ছে প্লট। টিলার মাটিও বিক্রি করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী হাউজিং কোমপানিগুলোর কাছে। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, প্রায় তিনমাস ধরে রাতদিন টিলাটি কাটা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টিলার প্রায় অর্ধেক মাটি কেটে ফেলা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ওসি খায়রুল ফজল বলেন, বাইশটিলা এলাকায় টিলা কাটার বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই। পরিবেশ অধিদফতর এ ব্যাপারে মামলা করলে ব্যবস্থা নেবো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাইশটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে আরেকটি টিলা কাটা হচ্ছে।