ধামরাইয়ে সেনা প্রশিক্ষণ কপ্টারের জরুরি অবতরণ, সহযোগী পাইলট আহত
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৩
ঢাকার ধামরাইয়ে গতকাল সকালে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ হেলিকপ্টার জরুরি অবহরণ করলে হেলিকপ্টারের সহযোগী পাইলট লে. কর্নেল আরিফুল বারী আহত হন। তাকে প্রথমে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হেলিকপ্টারের প্রধান পাইলট মেজর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুস্থ রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ধামরাইয়ের ফোর্ডনগরের চৌটাইল গ্রামের যুবক হাউজিংয়ের ভরাটকৃত মাটিতে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ হেলিকপ্টার বিধবস্ত হয়। ঐ সময় এলাকাবাসী বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার থেকে লে. কর্নেল আরিফুল বারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে সেনাবাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দল তাকে সাভার এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পরপরই সাভার নবম পদাতিক ডিভিশনের ও ঢাকা থেকে আর্মি এভিয়েশনের দুইটি টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এ সময় স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি অবস্থায় মোতায়েন রাখা হয়। ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার আছড়ে পড়লে হাজার হাজার উত্সুক জনতা হেলিকপ্টারটি দেখতে সেখানে ভিড় করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আর্মি এভিয়েশনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, আমেরিকার তৈরি বেল-২০৬-এল-৪ মডেলের এই হেলিকপ্টারটি ২০০৩ সালে বাংলাদেশে যুক্ত হয়। এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই হেলিকপ্টার ৫ সিটসহ একজন পাইলট ও একজন কো-পাইলট বহন করতে পারে। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে আর্মি এভিয়েশন থেকে সকাল ৯টার দিকে উড্ডয়ন করে। পৌনে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারটির টেইলরোটর (হেলিকপ্টারের পেছনের পাখা) ত্রুটি দেখা দেয়। এতে পাইলট হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। চৌটাইলের একটি ফাঁকা মাঠে জরুরি অবতরণের সময় হেলিকপ্টারের টেইলবুম (লেজ) ভেঙে যায়। এক পর্যায়ে হেলিকপ্টারের স্কিড (অবতরণের জন্য ধাতুর দুইটি পাত) ভেঙে গেলে উল্টে যায়। এতে পাইলট মেজর সৈয়দ নজরুল ইসলাম অক্ষত থাকলেও কো-পাইলট লে.কর্নেল আরিফুল বারী নাকে সামান্য আঘাত পান।
সাভার সেনানিবাসের লে. কর্নেল রকিবউদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু অবতরণের সময় হেলিকপ্টারটি একদিকে কাত হয়ে গেলে পাখা মাটিতে লেগে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।
এদিকে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রশিক্ষণে নিয়োজিত এই হেলিকপ্টারে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মেজর সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং কো-পাইলট হিসেবে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল বারী। হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণকালে লে. কর্নেল আরিফুল বারী আহত হন, তবে তা গুরুতর নয়। মেজর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণরূপে সুস্থ আছেন। সাভার সেনানিবাস হতে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল এবং বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আছে। আহত লে. কর্নেল আরিফুল বারীকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়ার পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।