উভয় সংকটে গুলশান ডিসিসি মার্কেট ব্যবসায়ীরা

রাজধানীর গুলশান নর্থ ডিসিসি মার্কেটে ছাত্রলীগের তাণ্ডব নিয়ে মামলা করায় উভয় সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা না পারছেন সহ্য করতে, না পারছেন কাউকে কিছু বলতে। এদিকে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষতি পূরণের আশ্বাস দিয়ে মীমাংসার নামে রিতিমত প্রতারণা করেছেন বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ব্যবসায়ীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারো বসিয়েছে অবৈধ দোকানপাট। কারপার্কিং এলাকায় সন্ধ্যার পর বসছে জমজমাট আড্ডা। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্যাডারদের পদচারণার কারণে মার্কেটের নিয়মিত ক্রেতারা আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। গত ১১ জুন গুলশান ২ নম্বর সেকশন ডিসিসি মার্কেটের কারপার্কিং নিয়ে সৃষ্ট ঘটনায় ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা ১৫ দোকান ভাংচুর করে ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনায় ডিসিসি সুপার মার্কেট মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান উদ্দিন গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় নামোল্লেখ করে কাউকে আসামি করেননি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে। তিনি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, আসামি গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের কোন ধরনে কার্পণ্যতা নেই। মামলার এজাহারেও কাউকে আসামি করেননি। বরং আসামিরা যাতে গ্রেফতার করা না হয় সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীরাই উল্টো তদ্বির করছেন। তার পরেও মার্কেটের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি তারা মামলা প্রত্যাহারের কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, মামলা হয়েছে, ইচ্ছে করলেই তো আর মামলা প্রত্যাহার করা যায় না। মামলার বাদি হাসান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা একটা সমঝোতার চেষ্টা করেন। তারা ক্ষতিপূরণের কথা বললেও সে ব্যাপারে এখন নীরব। মামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, মামলার অগ্রগতি কী জানি না। সব মিলে বিচার চাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সবাই ছাত্রলীগের। তারা সবাই পরিচিত মুখ। তাদের বিপক্ষে কোন কথা বলাটাও বিপজ্জনক। ঘটনার দুদিন পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলেন। তারা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যবসায়ীদের ৬ লাখ ৪৫ লাখ টাকা দেবেন। কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেননি। বরং হামলাকারীরা আগের চেয়ে এখন আরো বেপরোয়া। তারা ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখেই অবৈধ দোকানপাট বসিয়েছে। উল্টো তারা বলে বেড়াচ্ছে, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে আমের দোকান বসিয়েছে। মার্কেটের কারপার্কিংয়ে সন্ধ্যার পর তারা নিয়মিত আড্ডা জমাচ্ছে। তাদের কারণে মার্কেটের নিয়মিত অনেক ক্রেতা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারা এখন অন্য মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করছেন। তারা আরো বলেন, গুলশান নর্থ ডিসিসি মার্কেটের আগত ক্রেতাদের একটি বড় অংশই বিভিন্ন দূতাবাসের। তারাও অনেকে এখন মার্কেটে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। কী ঘটেছিল সেদিন:প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১১ জুন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির একনেতা তার তিন সহযোগী নিয়ে ডিসিসি মার্কেটে আসে। তারা মার্কেটের পার্কিংয়ে রং সাইড দিয়ে প্রবেশ করায় বাধা দেয় দুই নিরাপত্তাকর্মী। এসময় ছাত্রলীগ নেতাসহ অন্যারা গাড়ি থেকে নেমে তাদের বেদম প্রহার করে। তাদের চিত্কারে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ঐ নেতার নেতৃত্বে ৫০/৬০ সশস্ত্র ক্যাডার মার্কেটের ১৫টি দোকানে হামলা ও ভাংচুর চালায়। প্রায় আধা ঘন্টা ধরে চলে তাদের তাণ্ডব। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।