৫৩ সংসদীয় আসনের পরিবর্তন আনল ইসি

৫৩টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৮৮টি আসনের পরিবর্তন এনে প্রকাশিত খসড়া গেজেটের উপর আপত্তি ও পরামর্শ সংক্রান্ত শুনানি শেষে কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করলো। আঞ্চলিক অখণ্ডতা, প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা ও যতদূর সম্ভব জনসংখ্যাকে বিবেচনায় এনে সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালে জনসংখ্যাকে গুরুত্ব দিয়ে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৩০টি আসনের ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। এ নিয়ে সারাদেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তছনছ করা হয় ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধাকে। পরে বর্তমান কমিশন আগের কমিশনের আনা পরিবর্তন যাচাই-বাছাই করে সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনল। চূড়ান্ত গেজেট সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘৩০০টি আসনের সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ ভাগ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবারই নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট আকারে তা প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে।’ সিইসি আরো বলেন, ‘সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য কমিশনে সাত দিন ধরে শুনানি হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোকজন এসে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। সবার যুক্তিতর্কের ভিত্তিতেই এই সীমানা নির্ধারণ করেছে কমিশন।’ ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দ্যা ডিলিমিটেশন অব কন্সটিটিউন্সি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬ এ উল্লিখিত ধারা ৬ (৩) এর অধীনে জাতীয় সংসদের পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনী এলাকাসমূহের প্রাথমিক তালিকা গত ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে জারি করা হয়। খসড়া গেজেটের উপর নির্বাচনী এলাকার উপর আপত্তি ও পরামর্শ আহবান করে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আপত্তি ও পরামর্শ আবেদনসমূহে উল্লিখিত তথ্যাবলী পর্যালোচনা করে এবং শুনানিকালে উপস্থাপিত তথ্য ও যুক্তিতর্ক বিবেচনান্তে প্রাথমিক তালিকায় প্রকাশিত নির্বাচনী এলাকার প্রয়োজনীয় সংশোধন করে জাতীয় সংসদের পুনঃনির্ধারিত সীমানার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।’ এর আগে গতকাল বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকার অধিকাংশ আসন পুরনো সীমানায় অর্থাত্ ২০০৮ সালের সীমানা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। নির্বাচন কমিশন খসড়া গেজেটের উপর ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে আপত্তি-পরামর্শ দেয়ার জন্য আবেদন আহবান করা হয়। এ খসড়ায় জেলাওয়ারি আসন সংখ্যায় কোনো পরির্বতন না এলেও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করায় এবার আপত্তি ও অভিযোগ তেমন পড়েনি কমিশনে। সারাদেশে পুনর্বিন্যাসিত জাতীয় সংসদের আসন সীমানার ৮৮টি আসনের বিপরীতে ৩৭২টি আপত্তি এবং ৫৫২টি সমর্থন সম্পর্কিত আবেদন জমা পড়ে ইসির কাছে। এর আগের কমিশনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আপত্তি পড়েছিল। তবে বর্তমান কমিশন আপত্তি ও পরামর্শের উপর শুনানি গ্রহণের একমাস পর গত ১৬ জুন থেকে কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের কক্ষে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই সপ্তাহ ধরে সিইসির নেতৃত্বে প্রতিদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা করে সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাসের ওপর পর্যালোচনা চলে। এতে খসড়া সীমানার ওপর আসা বিভিন্ন দাবি-আপত্তি পর্যালোচনা করা হয়। ভৌগোলিক অখণ্ডতা, প্রশাসনিক সুবিধা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে এ ৫৩টি আসনে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবর্তিত আসনগুলোর বেশিরভাগই অখণ্ডতাকে রক্ষা করা হয়েছে। যেসব আসনের উপজেলার এক বা একাধিক ইউনিয়ন অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল তা এবার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিগত কমিশনের আমলের ২০০৮ সালের সীমানা নির্ধারণে যেগুলোতে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়াও ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণে কী কী সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তার সব নথিপত্র যাচাই বাছাই করা হয়। পাশাপাশি ১৯৭৬ সালের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও তার আলোকে প্রণীত নীতিমালার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যে ৫৩টি আসনে পরিবর্তন আনা হল ১. রংপুর-১ (ক) গংগাচরা উপজেলা, ২. রংপুর-৩ রংপুর সদর উপজেলা (রংপুর সিটি কর্পোরেশনভুক্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাসহ) ৩. কুড়িগ্রাম-২ (ক) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা (খ) রাজারহাট উপজেলা এবং (গ) ফুলবাড়ী উপজেলা, ৪. কুড়িগ্রাম-৩ (ক) সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ব্যতীত উলিপুর উপজেলা এবং (খ) নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত চিলমারী উপজেলা (১) অষ্টমীরচর ও (২) নয়ার হাট, ৫. কুড়িগ্রাম-৪ (ক) রৌমারী উপজেলা, (খ) রাজিবপুর উপজেলা এবং (গ) চিলমারী উপজেলার (১) অষ্টমীরচর ও (২) নয়ার হাট ইউনিয়ন, (ঘ) উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়ন, ৬. বগুড়া-১ (ক) সারিয়াকান্দি উপজেলা এবং (খ) সোনাতলা উপজেলা ৭. বগুড়া-৫ (ক) শেরপুর উপজেলা এবং (খ) ধুনট উপজেলা, ৮. যশোর-৩ বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ব্যতীত যশোর সদর উপজেলা, ৯. যশোর-৪ (ক) বাঘারপাড়া উপজেলা, (খ) অভয়নগর উপজেলা এবং (গ) যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন, ১০. যশোর-৫ মনিরামপুর উপজেলা, ১১.যশোর-৬ কেশবপুর উপজেলা, ১২.খুলনা-১ (ক) বটিয়াঘাটা উপজেলা এবং (খ) দাকোপ উপজেলা, ১৩. খুলনা-৬ (ক) কয়রা উপজেলা এবং (খ) পাইকগাছা উপজেলা, ১৪. পটুয়াখালী-১ (ক) পটুয়াখালী সদর উপজেলা, (খ) মির্জাগঞ্জ উপজেলা এবং (গ) দুমকী উপজেলা, ১৫. পটুয়াখালী-২ বাউফল উপজেলা, ৬. পটুয়াখালী-৩ (ক) দশমিনা উপজেলা এবং (খ) গলাচিপা উপজেলা, ১৭. পিরোজপুর-১ (ক) পিরোজপুর সদর উপজেলা, (খ) নাজিরপুর উপজেলা এবং (গ) নেছারাবাদ উপজেলা (স্বরূপকাঠি), ১৮. পিরোজপুর-২ (ক) কাউখালী উপজেলা, (খ) ভাণ্ডারিয়া উপজেলা এবং (গ) জিয়ানগর উপজেলা, ১৯. পিরোজপুর-৩ মঠবাড়ীয়া উপজেলা, ২০. জামালপুর-২ ইসলামপুর উপজেলা, ২১. জামালপুর-৩ (ক) মাদারগঞ্জ উপজেলা এবং (খ) মেলান্দহ উপজেলা, ২২. ময়মনসিংহ-২ (ক) ফুলপুর উপজেলা এবং (খ) তারাকান্দা উপজেলা, ২৩. ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর উপজেলা, ২৪. ময়মনসিংহ-৪ ময়মনসিংহ সদর উপজেলা, ২৫. নেত্রকোনা-২ (ক) নেত্রকোনা সদর উপজেলা এবং (খ) বারহাট্টা উপজেলা, ২৬. নেত্রকোনা-৫ পূর্বধলা উপজেলা, ২৭. ঢাকা-১৪ (ক) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড- ০৭, ০৮, ০৯, ১০, ১১, ১২ এবং (খ) সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন, ২৮. ঢাকা-১৯ নিম্নিলিখিত ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত সাভার উপজেলা: (১) আমিন বাজার, (২) তেঁতুলঝোড়া, (৩) ভাকুর্তা ও (৪) কাউন্দিয়া, ২৯. গাজীপুর-২ (ক) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ হতে ৩৮ নং ওয়ার্ড, (খ) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৩ হতে ৫৭ নং ওয়ার্ড এবং (গ) গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, ৩০. গাজীপুর-৩ (ক) শ্রীপুর উপজেলা এবং (খ) গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর, ভাওয়াল গড় ও পিরুজালী ইউনিয়ন, ৩১. নরসিংদী-১ নিম্নবর্ণিত ইউনিয়ন ব্যতীত সদর উপজেলা:(১) আমদিয়া, (২) পাঁচদোনা ও (৩) মেহেরপাড়া, ৩২. নরসিংদী-২ (ক) পলাশ উপজেলা এবং (খ) নিম্নবর্ণিত সদর উপজেলার ইউনিয়নসমূহ:(১) আমদিয়া, (২) পাঁচদোনা ও (৩) মেহেরপাড়া, ৩৩. নরসিংদী-৩ শিবপুর উপজেলা, ৩৪. নরসিংদী-৫ রায়পুরা উপজেলা ৩৫. নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁও উপজেলা, ৩৬. নারায়ণগঞ্জ-৪ (ক) ফতুল্লা থানা এবং (খ) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, ৩৭. সুনামগঞ্জ-৪ (ক) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা এবং (খ) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা, ৩৮. সুনামগঞ্জ-৫ (ক) ছাতক উপজেলা এবং (খ) দোয়ারাবাজার উপজেলা, ৩৯. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর উপজেলা, ৪০. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (ক) সরাইল উপজেলা এবং (খ) আশুগঞ্জ উপজেলা, ৪১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (ক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা এবং (খ) বিজয়নগর উপজেলা, ৪২. কুমিল্লা-৬ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, ৪৩. কুমিল্লা-৭ চান্দিনা উপজেলা, ৪৪. কুমিল্লা-৮ বরুড়া উপজেলা, ৪৫. কুমিল্লা-১০ (ক) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা এবং (খ) নাঙ্গলকোট উপজেলা, ৪৬. চাঁদপুর-১ কচুয়া উপজেলা, ৪৭. চাঁদপুর-২ (ক) মতলব (উত্তর) উপজেলা এবং (খ) মতলব (দক্ষিণ) উপজেলা, ৪৮. চট্টগ্রাম-৫ (ক) হাটহাজারী উপজেলা এবং (খ) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ০১, ০২, ৪৯. চট্টগ্রাম-৬ রাউজান উপজেলা, ৫০. চট্টগ্রাম-৮ (ক) শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন ব্যতীত বোয়ালখালী থানা এবং (খ) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড-০৩, ০৪, ০৫, ০৬, ০৭, ৫১. চট্টগ্রাম-১৩ (ক) আনোয়ারা উপজেলা, (খ) পটিয়া উপজেলার নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ:- (১) চর পাথরঘাটা, (২) চরলক্ষ্মা, (৩) জুলধা, (৪) বড়উঠান ও (৫) শিকলবাহা এবং (৫) কর্ণফুলী থানা, ৫২. চট্টগ্রাম-১৪ (ক) চন্দনাইশ উপজেলা এবং (খ) সাতকানিয়া উপজেলার নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ:- (১) কেওচিয়া, (২) কালিয়াইশ, (৩) বাজালিয়া, (৪) ধর্মপুর, (৫) পুরানগড় ও (৬) খাগরিয়া, ৫৩. চট্টগ্রাম-১৫ (ক) লোহাগাড়া উপজেলা এবং (খ) নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত সাতকানিয়া উপজেলা:-(১) কেওচিয়া, (২) কালিয়াইশ, (৩) বাজালিয়া, (৪) ধর্মপুর, (৫) পুরানগড় ও (৬) খাগরিয়া।