ইংল্যান্ডের মধুর সমস্যা

স্পোর্টস ডেস্ক

সময় যত এগোচ্ছে, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে প্রতিযোগিতা ততই যেন বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা এখন পেসারদের মধ্যে। সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে ক্যারিবিয়ান বংশদ্ভূত পেসার জোফরা আর্চারকে নিয়ে।

আর্চার বর্তমানে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত। ইয়ন মরগ্যানের নেতৃত্বে ১৭ জনের দলে আছেন তিনি। এর মধ্য থেকেই ১৫ জন খেলবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।

দল গঠন যে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের জন্য যথেষ্ট কঠিন হবে— সেটা একবাক্যে স্বীকার করে নিলেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই ১৭ জনের মধ্যে কয়েকজনকে আমাদের বাদ দিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই শক্ত সিদ্ধান্ত হবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে কে কেমন করছে তার ওপর আমরা খুব বেশি একটা নির্ভর করছি না। আমরা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সামগ্রিক ক্যারিয়ার বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেবো।’

জোফরা আর্চার আদৌ কি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাবে? — এই প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনো জবাব দেননি ব্রিটিশ অধিনায়ক। তিনি অবশ্য প্রশংসা করতে কোনো কমতি রাখেননি, ‘আমি মনে করি ও দারুণ বল করেছে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে ওর বোলিং ছিল অসাধারণ।’  বিশ্বকাপ দলে আর্চারের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেভিড উইলি। তবে, দলে পেসারের কোনো কমতি নেই। লিয়াম প্লাঙ্কেট, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, টম কুর্যান আছেন এবং এই চারজনের জায়গাটা মোটামুটি চূড়ান্ত। লড়াইটা হবে আর্চার ও উইলির মধ্যে।

মরগ্যান পেসারদের ব্যাপারে বলেন, ‘ওরা একজন আরেকজনের ওপরে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। গেল দুই-তিন বছরে এমনটা আমাদের জন্য খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ওদের যা প্রশংসা প্রাপ্য সেটা আসলে সব সময় ওরা পায় না।’

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ভাবনায় হঠাত্ করেই এসেছেন ওপেনার জেমস ভিন্স। কারণ নিষিদ্ধ ডোপ নেওয়ার দায়ে আপাতত আর জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে না অ্যালেক্স হেলসকে। বিশ্বকাপ দল থেকেও এই ওপেনারের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে, বিশ্বকাপ দলে ভিন্সই খেলবেন, এমন সম্ভাবনা এখন প্রকট।

বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। লন্ডন ওভালে প্রথম দিনই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইংল্যান্ড। তার সাত দিন আগে মানে, ২৩ মে পর্যন্ত সময়ে দল পরিবর্তন আনার সুযোগ রেখেছে আইসিসি।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ আগামী ৩০ মে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ইংল্যান্ডে। এরপর সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। এই টুর্নামেন্টে নিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে না পারার আক্ষেপ মুছে ফেলতে চায় ইয়ন মরগ্যানের দল।