অ্যাম্ব্রিসের স্বপ্নপূরণের দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার

সবকিছুই সুনীল অ্যাম্ব্রিসের প্রতিকূলে ছিল।

প্রথমত তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ দলে নেই। তারকা খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে কাজ চালানোর জন্য এসেছেন ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলতে। তারপরও একাদশে জায়গা হচ্ছিলো না। শেষ পর্যন্ত জায়গা পেলেন; তাও আবার ওপেনিংয়ে। তিনি খেলেন নিচের দিকে। কিন্তু আরেক বিশ্বকাপের বাইরে থাকা ইনফর্ম খেলোয়াড় জন ক্যাম্পবেল ইনজুরিতে পড়লে ইনিংস শুরু করার দায় পেলেন অ্যাম্ব্রিস। আর এখানেই নিজেকে প্রমাণ করে ফেললেন তিনি।

অ্যাম্ব্রিসের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ভর করে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগে ব্যাট করা আয়ারল্যান্ড ৩২৭ রান করেছিল। ১৩ বল বাকি থাকতে সেই অ্যাম্ব্রিসের ১৪৮ রানে ভর করে পাঁচ উইকেটের জয় পেলো উইন্ডিজ। আর এই ম্যাচের পর ‘নায়ক’ অ্যাম্ব্রিস বলছিলেন, অনুভূতিটা কেমন, সেটা তিনি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।

গতকাল আয়ারল্যান্ডে দেখা গেলো বিশ্বকাপের বাইরে থাকা দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি। পরে অ্যাম্ব্রিস করলেন। এর আগে দল হিসেবেই বিশ্বকাপে না থাকা আয়ারল্যান্ডের ব্যালব্রাইন করেছিলেন সেঞ্চুরি। 

আগে ব্যাট করা আয়ারল্যান্ড মাত্র দলীয় ১৯ রানেই হারিয়েছিল ম্যাককলামের উইকেট। এরপর ১৪৬ রানের জুটি করে ব্যালব্রাইন ও পল স্টার্লিং। স্টার্লিং ৭৭ রান করে ফিরে আসেন। কিন্তু ব্যালব্রাইনের ব্যাট চলেছে। তিনি শেষঅবধি ১২৪ বলে ১৩৫ রানের বিশাল এক ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে কেভিন ও’ব্রায়েন ৪০ বলে করেন ৬৩ রান। সবমিলিয়ে পাঁচ উইকেটে ৩২৭ রান তোলে আইরিশরা। জবাবে উদ্বোধনী জুটিতেই ১২.৪ ওভারে ৮৪ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মেকশিফট ওপেনার অ্যাম্ব্রিস ১৪৮ রানের ইনিংস খেলেন। কদিন আগেই প্রথম শ্রেণির ম্যাচে রানের বন্যা বইয়ে দিয়ে এসেছেন অ্যাম্ব্রিস। তিনিই জয়ের পথ দেখিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর রোস্টন চেস ৪৬ এবং কার্টার অপরাজিত ৪৩ রান করে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন।

অ্যাম্ব্রিস বলছিলেন, এইরকম ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার অনুভূতি তিনি বলে বোঝাতে পারছেন না, ‘সত্যি বলছি, আমি ব্যাখ্যা করতে পারবো না যে, আমার কেমন লাগছে। এরকম একটা কিছুর জন্যই আমি পরিশ্রম করেছি, এরকম একটা কিছুই আমি অর্জন করতে চেয়েছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই সম্ভবত আমি সবচেয়ে ভালো ব্যাট করলাম। আমি খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি। একবার যখন শুরুটা পেয়ে গেছি, তখন যতো বেশি সময় সম্ভব ব্যাটিং করতে চেয়েছি।’

এই রকম ইনিংস শুরু করার অভিজ্ঞতা অ্যাম্ব্রিসের আগে খুব একটা নেই। দায়ে পড়ে সেই কাজটা করার অভিজ্ঞতাও বলছিলেন অ্যাম্ব্রিস, ‘আমি সাধারণত এতো ওপরে ব্যাট করি না। কিন্তু আমি এটাকে বড় স্কোর করার সুযোগ হিসেবে দেখেনি। এই দলে আমার হয়তো সাত নম্বরে ব্যাটিং করার কথা ছিল। কিন্তু নিজেকে বললাম, সাতের বদলে ওপেন করেই দেখা যাক।’

এমন একটা পারফরম্যান্সের পর যে কেউ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখবে। অ্যাম্ব্রিসও সেটা দেখছেন। তিনি বলছেন, তার এই পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া উচিত, ‘এই পারফরম্যান্সের পর আমার নাম ওখানে (বিশ্বকাপে) থাকা উচিত। আসলে আমি নির্বাচকদের জানাতে চেয়েছিলাম যে, আমি আছি এবং আমি এখনো রান করছি।’