ইটালিতে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো হুমকির মুখে
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২০:৪৯
অভাব-অনটনের কারণে ইটালি সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ এতটাই কমিয়ে দিয়েছে যে, ইউনেস্কো সে দেশের সরকারকে হুঁশিয়ারি দিতে বাধ্য হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, পম্পেই-এর মতো ঐতিহাসিক নিদর্শনের সুরক্ষায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া হবে। খবর ডয়চে ভেলের।
সরকারি কোষাগারে টান পড়লেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কোন ক্ষেত্রে কাটছাঁট করা হবে। ভোটারদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এমন বিষয়গুলো প্রথমে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন নেতারা। ফলে নজর পড়ে অন্যান্য খাতের উপর। যেমন সংস্কৃতি। গান-বাজনা, নাটক-থিয়েটার এসবে কারো পেট ভরে না। অতএব, অনুদান কমালে কিছু প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভোটাররা তেমন রুষ্ট হন না।
কিন্তু দেশটির নাম ইটালি হলে বিষয়টি অন্য মাত্রা পায় বৈকি। ইটালি মানেই সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতি শুধু ইটালি নয়, গোটা ইউরোপে, গোটা বিশ্বেই সমাদৃত। দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক নিদর্শন। যেমন রোমের কলোসিয়াম থেকে শুরু করে রোমান যুগের পম্পেই নগরের ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু এ সব মনুমেন্ট থাকলে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণও করতে হয়। তার খরচও কম নয়। দেশের আর্থিক দুর্দিনে সরকার তাই ব্যাপক মাত্রায় খরচ কমিয়েছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী মাসিমো ব্রাই নিজে স্বীকার করেছেন, গত ৫ বছরে সংস্কৃতি বাজেট প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে। ফলে ইউরোপের বাকি দেশগুলোর তুলনায় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ইটালির সরকারি ব্যয় অনেক কমে গেছে। ইটালি সরকার বাজেটের মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ সংস্কৃতির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। আরেক সংকটগ্রস্ত দেশ আয়ারল্যান্ড একই খাতে ৭.৪ শতাংশ ব্যয় করে। স্পেনের ক্ষেত্রে এর মাত্রা ৩.৩ শতাংশ, ফ্রান্সের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ।
এমন অবস্থায় প্রমাদ গুনছে জাতিসংঘের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো। ইটালিতে তাদের জাতীয় কমিশনের প্রধান জোভানি পুলিয়িসি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিশেষ করে পম্পেই নগরের সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রায় ২,০০০ বছর আগে অগ্ন্যুত্পাতের কারণে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল সেই শহর। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে সেই যুগের নিদর্শন আবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলে দলে পর্যটক আসেন পম্পেইসহ ইটালির ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেখতে। তাদের কারণেও বিশাল আয় হয়। ফলে ইটালির সরকার ইউনেস্কোকে আশ্বাস দিয়ে বলেছে, পম্পেই নগরীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর্থিক অনটন সত্ত্বেও ইটালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা সম্ভব হবে, এমনটাই আশা করবে বিশ্বের মানুষ।