টেলিফোনে পাঠকের মতামত
নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২০:৫৮
খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সংবলিত আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছিল ভোক্তারা। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাভ করায় এখন তা দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে। —এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী
খাদ্যে ভেজাল আমাদের দেশে নতুন নয়। শৈশবকাল থেকেই শুনেছি এমন নানা কাহিনী। অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিএসটিআই নানা রকম কার্যক্রম করেছে এই ভেজালবিরোধী আন্দোলনের ওপর। কিন্তু কোনটাই স্থায়ী রূপ নেয়নি। সম্প্রতি সরকার খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ যে শাস্তির ব্যবস্থা আইন ২০১৩ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সেটা যদি যথাযথভাবে পালন করা হয় তাহলে সম্ভব হবে ভেজাল খাবার থেকে দূরে থাকা।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক
খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর নীতিগত যে অনুমোদন দিয়েছে সরকারকে এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নিরাপদ খাদ্য আইন অত্যন্ত জরুরি। তবে আসল কথা হচ্ছে ভেজাল ও ক্ষতিকর দ্রব্য মেশানো রোধে নাগরিক সচেতনতা, নৈতিকতা ও বিবেক জাগ্রত করার বিষয়টিও অত্যন্ত বিবেচ্য বিষয়।
এস কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন
প্রশিক্ষা কেন্দ্রীয় কার্যালয়
মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
জন স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকার ফরমালিন আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। যারা খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়াও জরুরি।
খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
প্রতিটি বাজারে ভেজালবিরোধী কমিটি গঠন করে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তার সাথে ফরমালিনসহ বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কুফল সম্বলিত পোস্টার টানাতে হবে। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ভেজালমুক্ত খাদ্যসামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে।
মনির হোসেন
মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
অতীতে ভেজালবিরোধী অভিযান হলেও নামমাত্র ছিল। শাস্তি, জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যা গুরুতর অপরাধে মোটেই যথেষ্ট নয়। এতে করে তারা পুনরায় অপতত্পরতা শুরু করে বহুগুণে মুনাফা উঠিয়ে নেয়। তাই খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে যে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে সেটাকে অবশ্যই কার্যকর করতে হবে।
লাড্লা
পিলখানা, ঢাকা
বাংলাদেশে খাদ্যে রাসায়নিক মিশানো ভেজাল খাদ্য জনগণকে মরণের দোরগোড়ার নিয়ে এসেছে। দেরিতে হলেও সরকার নিরাপত্তা খাদ্য আইন ২০১৩ পাস করেছে। এই আইন পাস হওয়ার ফলে খাদ্যে ভেজাল আনুপাতিক হারে কমে আসবে। ৭ বছরের জেল-জরিমানার ভয়ে ব্যবসায়ীরা ভেজাল খাদ্য পরিবেশন থেকে নিরুত্সাহিত হবে। নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠান গঠন করা হলে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে ঐ প্রতিষ্ঠান নিজেই ভেজালে পরিণত না হয়। এছাড়[ দেশ থেকে ভেজাল খাদ্যকে বিতাড়িত করতে হলে সরকারসহ বিরোধী দলের সাথে সমগ্র জাতিকে এই ভেজাল সংগ্রামে অংশ নিতে হবে। যাতে করে ভেজাল ব্যবসায়ীরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন (হিরো)
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
ভেজাল খেয়ে আজ আমরা সবাই রোগাক্রান্ত। তবে উদ্যোগ নিলে এদেশকে ভেজালমুক্ত করা অবশ্যই সম্ভব।
মো. ওয়াসিউদ্দিন শাহেদ
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
নিরাপদ খাদ্য আইন বলতে যা বুঝায় তা ১৯৫৯ সালের Pure Food অর্ডিন্যান্স আইন নামে পরিচিত ছিল। আইন প্রয়োগে দুর্বলতা থাকায় সে আইন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য দেশে বিএসটিআই কর্মকর্তাদের ওপর দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু তাদের কর্তব্য ঠিকমত পালিত হচ্ছে না। টাকার কাছে তারা মাথা নত করছে বা বিক্রি হয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার চিন্তা তো করছেই না, উপরন্তু মানব জাতিকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য আইন অর্ডিন্যান্স ২০১৩ কঠোর হাতে বাস্তবায়িত করতে না পারলে দেশবাসীর স্বাস্থ্য রক্ষা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। যে সব ব্যবসায়ী ভেজাল খাদ্য, বিষযুক্ত খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করছে তাদের পরিবারও এই বিষক্রিয়া থেকে রেহাই পাবে না। এই আইন কঠোরভাবে পালন করতে হবে। অসত্ ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তবেই নিরাপত্তা খাদ্য আইনে মানুষের নিরাপত্তা আসবে।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০
খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল ও ৩০ লাখ টাকার জরিমানার বিধান রেখে খাদ্য নিরাপত্তা আইন ২০১৩-এর নীতিগত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। তবে আমরা মনে করি, এ রকম আইনকে সত্যিই কাজে লাগাতে হবে।
মুন্সী মো. ওয়াহিদউল্লাহ
স্টুডিও ফুজিয়া, মিরপুর, ঢাকা
সরকারকে সাধুবাদ জানাই, এতদিন পর যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন করেছে। খাদ্য ভেজালকারীদের ফাঁসির বিধান রাখলে আরো ভালো করতো।
মো: আনোয়ার জাহিদ
রূপসী, রূপগঞ্জ,নারায়ণগঞ্জ
দেশে এই প্রথম ‘নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান’ নামে একটি সংস্থা গঠিত হতে যাচ্ছে— এটা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমি হাজারবার ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু বাস্তবে এই আইনটি কত পার্সেন্ট কার্যকর হবে সেই বিষয়েও রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। কারণ আমাদের দেশে আইন থাকা সত্ত্বেও আইনের কোন প্রয়োগ নেই। আমাদের দেশে আজ হাজারো সমস্যার ঘনঘটা, এর মধ্যে খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক সমস্যা। মেডিক্যাল জার্নাল পড়লে বুঝা যায় খাদ্যে ভেজাল থাকার কারণে মানুষ আজ কী পরিমাণ অসুস্থ হচ্ছে। ক্রমে ক্রমে প্রতিটি পরিবারের কোন না কোন সদস্য আক্রান্ত হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন টিউমার, উচ্চরক্ত চাপ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যাসহ নানাবিধ জটিল রোগে, আর এসব রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সরকারের উচিত দ্রুত এই আইনটি বাস্তবে প্রয়োগ করার ব্যবস্থা করা।
ডা.মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার, গুলশান, ঢাকা
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ আওতায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠান নামে একটি সংস্থা গঠন করে খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নিম্নমানের পণ্য বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেয়াসহ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ সমন্বয় করা হবে। উপরন্তু এই আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ফৌজদারি আদালতে এতদসংক্রান্ত অপরাধের বিচার করে বিভিন্ন ধারায় অপরাধীকে ২ বছর থেকে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয়বার একই অপরাধের জন্য দ্বিগুণ শাস্তিসহ ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তাছাড়া খাদ্য নিয়ে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিলে ২ বছর, নিবন্ধন ছাড়া বিপণন করলে ২ বছর এবং ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত লোক দিয়ে খাদ্য বিক্রি করলে ৩ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৮৪ সালের মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্য অধ্যাদেশ রহিত করে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি) আইন, ২০১৩ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ঐ বিধানে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন (নিবন্ধন) নিয়ে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য উত্পাদন, বিপণন ও সরঞ্জামাদি আমদানি করা যাবে, তবে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। এই বিধানে বিকল্প শিশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত যে কোন ধরনের কৌটাজাত ও প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধ, কৃত্রিম শিশুখাদ্য ব্যবহারের সরঞ্জামের জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি, প্রদর্শনী, বিতরণ, প্রচার বা প্রকাশ করলে ৩ বছর কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। বর্তমান সরকার তার মেয়াদের শেষের দিকে উপর্যুক্ত দু’টি আইন যথাক্রমে ৪৪ বছর এবং ২৯ বছর পর সংশোধন করে জাতির উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা ও ভোগান্তি দূর করার পদক্ষেপ নিয়েছে সত্য তবে ঐ বিধানগুলোর সঠিক প্রয়োগের জন্য জাতিকে আরো কত বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সেটাই বিবেচ্য। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে অনেক ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ করার তালিকায় আইন প্রণয়নকারীরা এবং তাদের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লুটকারীরা শীর্ষে থাকে ,ফলে আইন প্রয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের শিথিলতা, অনাগ্রহ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আতঙ্কও কাজ করে। অন্যদিকে বিশ্বপরিক্রমায় যে কোন আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিকেও সম গুরুত্ব প্রদান করা হয়ে থাকে। কাজেই আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আশুদৃষ্টি কামনা করছি।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
৫ বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩
শেষাবধি সরকার খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। আইন অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান নামে একটি সংস্থাও গঠিত হবে। বিলম্বে হলেও সরকারের এই পদক্ষেপে দেশবাসী স্বস্তি প্রকাশ করে।ে খাদ্যে অবাধে ভেজাল যারা মিশিয়ে আসছিলো, অন্তত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এবং জেল-জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। প্রশ্ন হলো, অপরাধীরা যারা ঠাণ্ডামাথায় মানুষ হত্যার সুদূরপ্রসারি কাজে লিপ্ত, তাদের অপরাধের বিপরীতে এই শাস্তি কম নয় কি? দেশে আগেও খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকারক দ্রব্য মিশিয়ে জনস্বাস্থ্য ক্ষতিকারকদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা ছিলো, তথাপিও খাদ্যে ভেজাল মেশানো কি কমেছে? কমেনি। কারণ আইনের বাস্তবায়ন না থাকলে কোন আইনই তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সার্বক্ষণিক ধারাবাহিক কার্যক্রম থাকলে ভোক্তার নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকবে, অন্যথায় নয়। আমাদের দেশে ভেজাল ঠেকাতেই বিএসটিআই থাকলেও মাঝে-মধ্যে আমরা বেড়ায় খেত খাওয়ার দৃশ্যও দেখেছি। তাই আমাদের অভিমত হলো— নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠান টি সত্যিকার অর্থে যদি তার সঠিক কার্যক্রম চালিয়ে তার মর্যাদা রাখতে পারে, তাহলে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ সফলতার মুখ দেখতে সক্ষম হবে। নইলে আইনটির ধার ও ভার কমে আসবে এবং জনগণ নিরাপদ স্বাস্থ্য প্রাপ্তির অধিকার থেকেও বঞ্চিত থাকবে।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
আমরা প্রতিটি খাবারে ভেজাল খাচ্ছি। তাই এই ভেজালবিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করে সরকার যে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে এজন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন সেলিম
শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
ভেজাল ও রাসায়নিক মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার—সেটার জন্য তারা প্রশংসার দাবিদার। তবে এটাকে যদি যথার্থভাবে বাস্তবে রূপ না দেয়া যায় তাহলে কোন লাভ হবে না।
শাহানারা ইয়াসমীন
ঢাকা
খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে উদ্যোগ নেয়া দরকার।
মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু
ফটো সাংবাদিক
মহাখালী
মানুষ সরল বিশ্বাসে নানা খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে নানা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। পেটের পীড়া, আলসার, লিভার, কিডনির জটিলতা এবং এমনকি ক্যান্সারের মত মারাত্মক রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে যে আইন সরকার অনুমোদন দিয়েছে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আবদুল মালেক মিয়া
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস,
মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
বিশ্বে এমন দেশ বিরল আমাদের দেশের মত, যে দেশে অস্বাভাবিক মুনাফার লোভে মানুষের খাদ্যে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়। সত্যি বিষয়টি অমানবিক। তাই অচিরেই এই আইনের মাধ্যমে কঠোর হতে হবে।
বিপ্লব আলম
উর্দুরোড, লালবাগ, ঢাকা
রমজান মাস আসন্ন। ইফতারসামগ্রীতে প্রতিবছর নানারকম বিষাক্ত পদার্থভেজাল দিতে দেখা গেছে। সুতরাং এই মুহূর্তে এই আইনটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
সোহাগ
ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা
১৫ কোটি মানুষের দেশটি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হবার স্বপ্ন দেখছে। সুতরাং যদি খাদ্যে ভেজালকে এখনই রোধ না করা যায় তাহলে দেশ নিরাপদ হবে না।
কাউছার আকন্দ
মতিঝিল, ঢাকা
ভেজালবিরোধী আন্দোলন হাজার বছর ধরে চালিয়ে গেলেও খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রণ বন্ধ হবে কিনা সন্দেহ। তাই আইনটির সুষ্ঠু প্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন।
সৈয়দা পারভীন সুলতানা
ঝিনাইদহ
আর ক’দিন পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। এই রমজানেই প্রমাণ করতে হবে আলোচ্য বিষয়টি। আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রণের তত্পরতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই সারাদেশের মানুষ ভেজাল খাবার থেকে মুক্তি পাবে।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা।
আসছে রমজানে ইফতারসামগ্রী ও ঈদের খাদ্যসামগ্রী যাতে সব ধরনের ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক ও ক্ষতিকর রং থেকে মুক্ত থাকে, তার নিশ্চয়তা বিধানে এখনই সর্বোচ্চ কঠোর কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে।
হোসনে আরা নীলু
এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা
দেশ জুড়ে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার চলছে নির্বিবাদে। অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের তত্পরতা দূর করতে আইনটি অপরিহার্য।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা
নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে হবে।
আইরিন সুলতানা (সনজু)
মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
দীর্ঘদিন পর হলেও সরকার নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুমোদন করেছেন। সরকার একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠান নামে একটি সংস্থাও গঠন করবেন বলে জানান। দেশের ভুক্তভোগী মানুষ আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর প্রয়োগ দেখতে চায়। মাছে-ভাতে বাঙালির মাছে ফরমালিন ও চালে ক্যাটসিয়াম এবং শাক সবজি, ফলমূলে প্রাণঘাতী বিষ মিশিয়ে যারা ব্যবসার নামে লক্ষ-কোটি মানুষকে নীরবে হত্যা করছে তাদেরকে প্রাপ্য শাস্তি প্রদান এবং তা পত্র-পত্রিকাসহ সকল মিডিয়ায় প্রচার করে দেশের মানুষের কাছে আইনের যথার্থতা প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় সরকার সৃষ্ট আইন সরকারের জন্য বুমেরাং হবে।
আবু তাহের বকুল
১৫ দীননাথ সেন, ঢাকা-১২০৪
খাদ্যের ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে স্তর ভেদে সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একইসাথে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে আরম্ভ করে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে এখনই নিরাপত্তা খাদ্য আইন ২০১৩-এর সংশোধন করা একান্ত আবশ্যক বলে আমি মনে করি।
নাছিরউদ্দন সিদ্দিকী
৩৬১ খন্দকার রোড,
পশ্চিম জুরাইন মাজারশরীফ এলাকা,
শ্যামপুর, ঢাকা-১২০৪
ফলফলাদি ও খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন প্রয়োগ কিংবা সজীব বা টাটকা রাখার জন্য কোন প্রকার মেডিসিন প্রয়োগ করলে মেডিসিন প্রয়োগকারীকে ৭ বছর কারাদণ্ডর প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যা দেশের মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশে সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বেলায় প্রথমে যে আগ্রহ এবং উদ্দীপনা থাকে পরবর্তীতে সময়ে সেটা লক্ষ্য করা যায় না। নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান সৃজন একটি ভালো সিদ্ধান্ত বলা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, ঐ প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করবেন তারা কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
শতভাগ স্বচ্ছতা এবং অদম্য আগ্রহ নিয়ে যে কেউ খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল নিয়ে কাজ করলে তাকে বিভিন্ন দিক থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে হয়। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের প্রশাসনসহ উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ যদি এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন তাহলে অবশ্যই জনগণ উপকৃত হবে। আমরা মনে করি, দেশের ফলফলাদি ও সবজি বিক্রেতা, মিষ্টি উত্পাদনকারী, মুড়ি এবং চাল তৈরিকারকগণ যদি সদিচ্ছা প্রকাশ না করেন তাহলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রেখেও কোন ফল হবে না। সেজন্যই দেশে যে কোন জায়গায় অপরাধীকে ধরতে পারলে তাকে যথেষ্ট সাজা দিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করলে হয়তো জনগণ সচেতন হবেন। তার ফলে অপরাধ প্রবণতাও কমে আসতে পারে। এজন্য দরকার দেশের সমস্ত মিডিয়ার এই ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে লেখালেখি করা ও প্রচার চালানো। নাগরিক সচেতনতার কোনই বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, তাহলে নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান সৃজন যথাযথ হবে। আর খাদ্যে ফরমালিন প্রয়োগকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যেতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিন প্রয়োগ কমে আসতে পারে বলে আমরা মনে করি।
ওয়াহিদ মুরাদ
স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
সরকার আইন করেছে; কিন্তু আমরা এখন এই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন চাই।
মো. জুয়েল
মিরপুর, ঢাকা
নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এই আইন কার্যকর করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জোর আবেদন করছি।
শেখ মো. এনামুল হক
বনানী, ঢাকা
খাদ্যে ভেজাল বর্তমানে একটি মহামারিতে রূপ নিয়েছে বিশেষ করে ফল, মাছ ও শিশুখাদ্যে। বিভিন্ন সময়ে সরকারি অভিযানে এগুলো ধ্বংস করে ও তাত্ক্ষণিক জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না। যার দরুন সরকারের নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুমোদনের মাধ্যমে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। এতে করে খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো একেবারেই কমে যাবে।
সরকার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
মহাসচিব,
বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ, ঢাকা
বর্তমান সময়ে ফলমূলে রাসায়নিক পদার্থ মিশানো একটি রীতিতে রূপ নিয়ে। ইতিমধ্যে দেশের অনেক স্থানে অনেক ব্যক্তি মারা গিয়েছে। তাই ফলমূলে রাসায়নিক পদার্থ মিশানো হত্যাকাণ্ডের শামিল। শুধু সাত বছর কারাদণ্ড অপরাধের প্রবণতা কমিয়ে আনতে পারে না। অসত্ ব্যবসায়ীদের মোটা অঙ্কের জরিমানা করা উচিত। জনগণকে এ ব্যাপারে ব্যাপক সচেতন করতে মিডিয়াকে ভূমিকা রাখতে হবে।
নাছির উদ্দিন ফোরকান
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা
মার্কিন যুক্তরাষ্টের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর আদলে যদি আমাদের দেশে সবদিক দিয়ে শক্তিশালী নিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন প্রতষ্ঠিত হয় তবে হয়তো দেশের জনগণ নিরাপদ খাদ্য যেমন ভক্ষণ করতে পারবে তেমনি নিরাপদ ওষুধও সেবন করে রোগমুক্ত হবে। অন্যথায় এ হবে শুধু জনগণের টাকার অপচয়। আর যারা আমাদেরকে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড।
মো. লুত্ফর রহমান
এলিফ্যান্ড রোড, ঢাকা
পল্লীতে যাতে এই ভেজালবিরোধী অভিযান চলে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
আবুল বাসার
ধামরাই, ঢাকা
আমরা যেসব খাবার খাচ্ছি তা যেন টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাওয়া। আমরা অসহায়। যে ব্যবস্থাটি সরকার নিয়েছে তা ভাল কিন্তু আরো একটু কঠিন শাস্তির বিধান হওয়া দরকার ছিল। এই আইন যেন অবশ্যই কার্যকর করা হয়।
তানভীর দিদা
নিকুঞ্জ, ঢাকা
আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে যতো আইন আছে সব আইনের জন্য যদি একটি করে অফিস বা সংস্থা গঠন করা হয় তবে দেশে আইন প্রয়োগের চেয়ে অফিসের সংখ্যাই বেশি হয়ে যাবে। নিরাপদ খাদ্য আইন পাস হয়েছে কিন্তু তাই বলে কি নতুন করে খাদ্যপ্রতিষ্ঠান গঠন করে খাদ্যের ভেজাল দূর করতে হবে? তাহলে দেশের বর্তমান খাদ্য অধিদপ্তর/বিভাগ বা ঐ সব মাথাভারি প্রশাসন রাখারই বা কী দরকার? তবে হ্যাঁ নতুন অফিস করে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বৈকি। অন্ততঃপক্ষে দেশের কিছু অযোগ্য লোকের চাকরি হবে। তাই না? খাদ্যের ভেজাল মিশ্রণকারীদের ধরে শুধু ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়াই যথেষ্ট নয়। বরং আমি মনে করি, যদি কোন ব্যক্তি ঐসব অপরাধের জন্য অপরাধী হয় তাহলে দেশের স্বার্থে অধিক জরিমানাসহ মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত। তবেই দেশের ভেজালের দৌরাত্ম্য কমে আসবে বলে মনে করি।
আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২
পাঁচ থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ১৯৫৯ সালের পুরোনো আইন সংশোধন করা হয়েছে। এই আইন অনুমোদনের জন্য ধন্যবাদ সরকারকে। শুধু বলবো, আইনটিকে কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
ভেজাল খাদ্য ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার খাদ্যের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে পুরোনো আইনকে কঠোর করতে এই খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সেজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও এ ধরনের অপরাধের সুবিচার করতে হবে।
রিফাত
ঝিনাইদহ
কমিটি-কমিশন আইন ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ আমাদের এ দেশ। পৃথিবীর আর কোন দেশে এত কমিটি-কমিশন কিংবা আইন আছে কিনা সন্দেহ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তাই এখন আমরা বাস্তবতার নিরিখে কেউ অপরাধ করলে তার কঠোর দণ্ড বা শাস্তি এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এসব দেখতে চাই। খাদ্যে ভেজাল দিলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের জেল হবে। এটি যেন কেবল আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এর বাস্তব প্রয়োগ আমরা দেখতে চাই। আইনের প্রয়োগ না থাকলে এর কোন ফল লাভ হবে না।
মো. শহীদুল রহমান
কাকিনা, লালমনিরহাট।
খাদ্যে ভেজাল এদেশে বহুদিন ধরে। তবে ইদানীং এর প্রসারতা বেড়েছে। তাই সরকার যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান করেছেন, সেটা বাস্তবে কার্যকর দেখতে চাই আমরা। ভেজালমুক্ত দেশ চাই আমরা।
সানজিদা আক্তার শিলা
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
ভেজাল খাদ্যে ভরে গেছে আমাদের দেশ। এর মূলে রয়েছে নৈতিক অবক্ষয় ও ধর্মীয় অনুশাসন না মেনে চলা। ভেজালকারীরা একবারও ভেবে দেখে না যে ভেজালের কারণে তার নিজের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা হোক, নিরাপদ খাদ্য আইন সরকারের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। একে স্বাগত জানাই। কিন্তু নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠান কতটুকু দায়িত্ব পালন করবে তাই ভেবে দেখার বিষয়। কারণ বিএসটিআই-এর দায়িত্ব ছিল ভেজালের বিষয়টি দেখার। কিন্তু তাঁরা কি করছেন? তাই নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠান না বানিয়ে বিএসটিআই-এর ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে। ভেজাল যেহেতু গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু সেহেতু বিষয়টি কৃষি বিভাগের ওপরও ছেড়ে দেয়া যায়। এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠানের সাথে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততার ব্যবস্থা রাখলে জনগণ দ্রুত ভেজালের তথ্য পৌঁছে দিতে পারবে।
সেলিনা রাহাত আরা
গুলশান-১, ঢাকা- ১২১২।
খাদ্য ভেজাল রোধে যে আইন করা হোক না কেন আমরা যদি তা না মানি তাহলে তা কার্যকর হবে না। শুধু রমজান মাসেই নয় সারাবছর যেন এ দেশের জনগণ ভেজালমুক্ত খাদ্য খেতে পারে সেজন্য খাদ্যশস্য সরবরাহকারী সংস্থা ও ক্রেতাদের সচেতনতা প্রয়োজন।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী