সারাদেশে কুটির শিল্প আট লাখ ৩০ হাজার
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২২:০৯
দেশে প্রথমবারের মতো কুটির শিল্পের ওপর জরিপ চালিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম মূলধন এবং ১০ জনের নিচে কর্মরত রয়েছেন এমন শিল্পগুলোকে কুটির শিল্প হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৮ লাখ ৩০ হাজারের অধিক কুটির শিল্প রয়েছে।
গতকাল বিবিএস ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে জরিপের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। সভাপতিত্ব করেন বিবিএস এর মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করে প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ জানান, শিল্পনীতি ২০১০ এর আলোকে ২০১১ সালে সমগ্র বাংলাদেশে মোট ১১৭১টি গণনা এলাকাতে ১০ এর কম জনবল বিশিষ্ট কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানে জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে ১৫১টি গণনা এলাকা ছিলো যেখানে একই জাতীয় পণ্য উত্পাদন বা সেবা কর্ম পরিচালিত হতো।
ফলাফলে দেখা যায়, মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৩০৬টি কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরের তুলনায় পল্লী অঞ্চলে কুটির শিল্প বেশি। মোট কুটির শিল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৩০ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর রাজশাহী বিভাগে ২১.৭%, খুলনা বিভাগে ১৪.৭%, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪%, রংপুর বিভাগে ১০%, বরিশাল বিভাগে ৬.২% এবং সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে মাত্র ৩.৩ শতাংশ।
জরিপে দেখা গেছে, কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৬ শতাংশ একক মালিকানায়, ৩ শতাংশ অংশিদারিত্বমূলক। কুটির শিল্প মালিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ৮৩ শতাংশ এসএসসির নিচে, ১৫ শতাংশ এসএসসি/এইচএসসি এবং মাত্র ২ শতাশ ডিগ্রি ও তার অধিক। অন্যদিকে এ কুটির শিল্পগুলোর মধ্যে শুধু ৩৫ শতাংশ রেজিস্টারভুক্ত। কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োজিত মোট জনবল প্রায় ২৯ লাখ ৬৩ হাজার এবং বাত্সরিক আয় প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব নজিবুর রহমান বলেন, শিল্পনীতি ২০১০-এর আলোকে বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রথমবারের মত কুটির শিল্প জরিপ পরিচালনা করেছে যার ফলাফলের মাধ্যমে এই খাতের অবদান জাতীয় আয়ে কতটুকু তা জানা সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, এই শিল্প বিকাশে নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে অত্যন্ত সহায়ক হবে।