মিসরে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট মানসুরের শপথ গ্রহণ
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২৩:২১
মিসরের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি আদলি মাহমুদ মানসুর শপথ নিয়েছেন। গত বুধবার রাতে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মানসুরের নাম ঘোষণা করে। মুরসিকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার শীর্ষ সহযোগীরাও গৃহবন্দী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান সরকারের প্রতি মৌন সমর্থন দিয়েছেন। এদিকে ব্রাদারহুডের নেতাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর। গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। আফ্রিকার ইউনিয়ন মিসরের সদস্যপদ স্থগিত করতে পারে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও দ্য টাইমস’র।
সেনাবাহিনীর জারি করা ডিক্রি অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মানসুর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেয়ার আগে গতকাল বৃহস্পতিবারই সাংবিধানিক আদালতের প্রধান হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ৪ দিন আগে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পান মানসুর। কায়রোর সাংবিধানিক আদালতে মানসুর নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করার কথা বললেও নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি। মুরসির পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় রাস্তায় গণবিক্ষোভের মধ্য দিয়ে মিশরের জনগণ তাদের বিপ্লবের গৌরবোজ্জ্বল পথকে প্রশস্ত করেছে এবং এর মধ্য দিয়েই তারা তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন মানসুর। দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং জনগণের প্রশংসা করে মানসুর বলেন, শাসকের তোয়াজ করার যুগ শেষ হয়ে গেছে। মানসুর একইসঙ্গে গণমাধ্যম, পুলিশ এবং বিচার বিভাগের প্রশংসা করেন। দেশের মানুষকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ারও আহবান জানান তিনি। তিনি প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সংবিধান ও আইন রক্ষা করে চলা এবং জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য শপথ নেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, মিসরের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একমাত্র পথ নির্বাচন। মানসুরের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে উত্খাত করে একটি সেনাস্থাপনায় রেখেছে সেনাবাহিনী। তার সঙ্গে তার শীর্ষ সহযোগীদেরও আটক রাখা হয়েছে। ব্রাদারহুডের একজন শীর্ষ নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। মুরসিসহ ক্ষমতাসীন ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির কয়েকজন নেতার দেশত্যাগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মেদ বাদি এবং তার সহযোগী খাইরাত এল-শাতেরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। দলটিতে মুরসির পর এদেরই সবচে ক্ষমতাবান মনে করা হয়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসহ রাজধানী কায়রোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ট্যাংক, সাঁজোয়া যানসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মুরসি এ ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান আখ্যা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা মুরসি ও তার দল মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে দেশে ইসলামিক কর্মসূচি পরিচালনা করা এবং দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে। গত রবিবার থেকে মিসরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদ আজ শুক্রবার এক বৈঠকে মিলিত হবে। এতে মিসরের সদস্যপদ স্থগিত করা হতে পারে। মিসরের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে মুরসিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সেনাবাহিনী। বুধবার বিকালে সেই আল্টিমেটাম শেষ হয়। এরপর বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, দেশকে বাঁচাতে মুরসিকে সরিয়ে সেনাবাহিনী তাদের ‘ঐতিহাসিক দায়িত্ব’ পালন করেছে। তার ভাষণে দেশটির জনগণ আশ্বস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় উল্লাস করেছে। প্রায় দুই বছর আগে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আর গত রবিবার মুরসির ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হয়।