নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পুলিশের জব্দ করা গাড়ি
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২৩:২২
মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে বিভিন্ন মডেলের কার, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মিশুক, মোটর সাইকেল ও ট্রাক। স্থান সংকুলানের অভাবে কার্যালয়ের সামনের রোডে কয়েকটি ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মিনিবাস রাখা হয়েছে। কার্যালয়ের ভিতরে রাখা গাড়িগুলো বছরের পর বছর অযত্ন আর অবহেলার কারণে ময়লার আস্তর পড়ে গেছে। এখন এগুলোকে গাড়ি বলে মনে হয় না। বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িগুলোতে মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে, মাটির নিচে দেবে গেছে এবং কোনো কোনো গাড়ির ওপর গজিয়েছে গাছ ও গুল্ম লতা।
শুধু ডিবি কার্যালয়ে নয়, রাজধানীর ৫০টি থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করলে এ রকম চিত্র চোখে পড়বে। বিভিন্ন মামলা বা দুর্ঘটনার আলামত হিসেবে জব্দ করা কয়েক হাজার গাড়ি বছরের পর বছর এভাবেই পড়ে রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আটক এসব গাড়ির ইঞ্জিন শুধু নষ্টই হচ্ছে না, আস্ত গাড়ি ক্রমেই মিশে যাচ্ছে মাটির সঙ্গে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এসব গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে বাইরে বিক্রি হয়। নিরাপত্তার অভাব ও গাড়ি মনিটরিং করার কোন সেল না থাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামলার নিষ্পত্তি শেষে গাড়ির মালিক দেখেন যে গাড়ির শুধু বডি রয়েছে।
শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালতের মামলা বিচারাধীনের কারণে জব্দ করা গাড়ি মালিকের কাছে ফেরত দিতে দেরি হয়। থানায় ১০/১২টি জব্দ করা বিভিন্ন ধরনের গাড়ি রয়েছে। এর বাইরে মালিকবিহীন ৫টি গাড়ি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সম্প্রতি একটি গাড়ি মামলা নিষ্পত্তি শেষে মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
শাহবাগ থানার পাশেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সাবেক অফিস চত্বরে পড়ে আছে ৫১টি গাড়ি। এই গাড়িগুলো ডিবি পুলিশ বিভিন্ন ঘটনায় জব্দ করে সেখানে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রেখেছে। এই গাড়িগুলো থেকে মাঝে মধ্যেই মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরিও হচ্ছে। শেরেবাংলা নগর ডাম্পিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত নতুন-পুরনো গাড়ি পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আর চোরদের তত্পরতায় অনেক গাড়িরই এখন কঙ্কাল দশা। চাকা চুরি হয়ে গেছে কোনোটির, কোনোটির গ্লাস উধাও, আবার কোনোটির শুধু বডি পড়ে আছে। ডাম্পিং স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য বলেন, বিআরটিএ ও পুলিশ বিভিন্ন মামলায় জব্দের পর ডাম্পিং স্টেশনে গাড়িগুলো এনে রাখে। ১০ বছর ধরে পড়ে আছে এমন অনেক গাড়ি এখানে রয়েছে, যেগুলোর খবর নিতে কেউ আসেন না। চারপাশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় এগুলোর দামি যন্ত্রাংশ খুব সহজেই চুরি হয় বলে তিনি জানান।
খিলগাঁও থানার সামনে জব্দ করা গাড়ির বিশাল স্তূপ। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় একটি গাড়ির উপর আরেকটি গাড়ি রাখা হয়েছে। মিরপুর থানায় জব্দ করা শতাধিক গাড়ি যত্রতত্র পড়ে আছে। এর মধ্যে ১৫ বছর আগের গাড়িও এখনো থানায় রয়ে গেছে। কবে নাগাদ মামলার নিষ্পত্তি হবে জানেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। রমনা থানা কম্পাউন্ডে জরাজীর্ণ অবস্থায় ১১টি গাড়ি পড়ে আছে। আইনি জটিলতার কারণে তা মালিকদের ফিরিয়ে দিতে পারেনি পুলিশ কর্মকর্তারা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা গাড়ির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। আদালতের অনুমতি নিয়ে পুলিশ যাতে দ্রুত গাড়ি মালিকের কাছে ফেরত দিতে পারে- সে ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যবস্থা নিলে গাড়ির মালিকরা ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাবেন এবং চাপ কমবে পুলিশের ওপরও।