সৌর রশ্মির হুমকিতে বিমান যাত্রীরা
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৪
পৃথিবীর মাত্র সাত থেকে আট কিলোমিটার উঁচুতে রঞ্জন রশ্মি (এক্স-রে) ও গামা রশ্মি সঞ্চালিত হচ্ছে। প্রতি ১১ বছর পর পর সক্রিয় সূর্য থেকে সৃষ্ট সৌর বিচ্ছুরণের (সোলার ফ্লেয়ার) কারণে এ রশ্মির তীব্রতা অনেক। বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর যাত্রীরা এজন্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কারণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এগুলো সাধারণত ১০ থেকে ১৪ কিলোমিটার উঁচুতে চলাচল করে। এর প্রেক্ষিতে কলকাতা ভিত্তিক স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, দ্য ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স (আইসিএসপি) ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্স এর গবেষকরা ২৯ জুনের পর থেকে এ বিষয়ে দেশটির বেসামরিক বিমানের মহাপরিচালককে এই সোলার ফ্লেয়ারের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করে। তাদের মতে, এ ক্ষতিকর রশ্মি হালকাভাবে লাগলেও এর কারণে চামড়ায় প্রদাহ তৈরি হতে পারে যা থেকে স্কিন ক্যান্সার, জিন রূপান্তর এমনকি কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আইসিএসপি’র প্রধান ও এসট্রোফিজিক্স এর অধ্যাপক এসএন বোস বলেন, এ অবস্থায় আমরা কাউকে পরামর্শ বা সুপারিশ করতে পারি না। শুধু আমরা মনোযোগ আকৃষ্ট করতে পারি যাতে করে সৌর সক্রিয় বর্ষে বিমান যাত্রী ও ক্রুদের সুরক্ষায় একটু বেশি যত্ন নেয়া হয়। তবে সোলার ফ্লেয়ারের সময় মানুষের শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কলকাতার বিরলা প্লানেটরিয়ামের পরিচালক ডিপি দুয়ারি বলেন, প্রতি ১১ বছর পর পর সূর্য অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সোলার ফ্লেয়ার ঘটায়। যাতে থাকে শক্তিশালী রঞ্জন রশ্মি ও গামা রশ্মি। সোলার ফ্লেয়ারের বৃদ্ধি এখনকার সময় সাধারণ ঘটনা। সর্বশেষ ২০০১ সালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিলো। ধারণা করা হয়, ২০১১ সালে সোলার ফ্লেয়ারের ঘটনা ঘটেছিলো কিন্তু তা হয়নি। বরং সোলার ফ্লেয়ার হয়েছে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে মাসে। এ সময় সূর্যের সক্রিয়তা কয়েক মাস স্থায়ী হয়। দিনের বেলা সূর্য শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছানোর পর সবচেয়ে বেশি সোলার ফ্লেয়ারের উত্পন্ন হয়। ১৮৪৩ সালে সূর্যের এ চক্রের আবিষ্কারের পর থেকে মানুষ এগুলো লক্ষ্য করে আসছে।
সূর্য যখন সক্রিয় থাকে না তখন সোলার ফ্লেয়ার থেকে দুর্বল রশ্মি বিচ্ছুরিত হয় যা পৃথিবীর বায়ু মণ্ডল ভেদ করে ভূ-পৃষ্ঠে অর্থাত্ মানুষের কাছে পৗঁছাতে পারে না। কিন্তু সূর্য যখন সক্রিয় থাকে তখন এই সোলার ফ্লেয়ার থেকে তীব্র রশ্মি নির্গত হয় যা বায়ু মন্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে পারে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্স এর এসকে চক্রবর্তী বলেন, সূর্য সব সময় রঞ্জন ও গামা রশ্মি নির্গত করে। স্বাভাবিক সময়ে বিমান চলাচলের সীমারেখায় এসব রশ্মি প্রতি সেকেন্ডে ২ হাজার ইউনিট হারে বিচ্ছুরিত হয়। কিন্তু সোলার ফ্লেয়ারের সময় তা কমপক্ষে ৫ হাজার গুণ বেড়ে যায়। এ সময় যারা বিমানে ভ্রমণ করে তাদের জন্য এসব রশ্মি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তিনি বলেন, স্পেকট্রাম এনালাইজারের মাধ্যমে দেখা গেছে, বিমান চলাচলের স্তরে তীব্র মাত্রার রশ্মি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। এমনকি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৭-৮ কিলোমিটার উপরেও এর তীব্রতা থাকতে পারে।