কিশোরগঞ্জে ভোট ডাকাতির মহড়া হয়েছে, গাজীপুর নিয়েও ষড়যন্ত্র হচ্ছে
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৫
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বুধবার অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে ভোট ‘ডাকাতি’র মহড়া হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় সরকার এখন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জয় ছিনিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এজন্য গাজীপুরে সেনা মোতায়েনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে যেখানে এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দে যেতে তিন-চার ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে আধা ঘণ্টার মধ্যে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ মিনিটের মধ্যে তিন ধরনের ফল হয়েছে। একবার বলা হল, বিজয়ী প্রার্থী এক লাখ ৫৬ হাজার ভোট পেয়েছেন, আরেকবার বলা হল, এক লাখ ৫৬ ভোট, সর্বশেষ বলা হল, ৯৯ হাজার ভোট পেয়েছেন। অথচ কয়েকদিন আগে অনুষ্ঠিত চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এক কেন্দ থেকে আরেক কেন্দে র দূরত্ব ছিল ২০-২৫ মিনিটের, সেখানে ফল পেতে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এতেই প্রমাণিত হয় কিশোরগঞ্জে সবকিছু সরকারের পরিকল্পনা মাফিক হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে কীভাবে ভোট লুট করা হবে, কিশোরগঞ্জে তার একটি মহড়া হয়ে গেল। এই উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, এ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়।
তার অভিযোগ, কিশোরগঞ্জে কেন্দ দখল করে ভোট কারচুপি হয়েছে। এতে যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক মিলকি ও কামরুল চৌধুরী জড়িত ছিলেন। কিশোরগঞ্জের উপ-নির্বাচন পরিচালনায় ইসির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা প্রমাণিত— বর্তমান ইসি সরকারের একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না।
ফখরুল বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম এবং উত্তরায় যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে ‘সেল’ গঠন করে স্থানীয় প্রশাসনকে দিক-নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে বলে তারা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন।
নয়াপল্টনে এই সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে যায়। তারা সিইসি’র সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি গাজীপুরে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।
‘গাজীপুরে প্রতিদিনই নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে’
এদিকে, জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মানবাধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল এবং আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দিন যতই যাচ্ছে ততোই সরকার প্রমাণ করছে এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। কেননা চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা আর বর্তমান সরকারকে চায় না। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুরে প্রতিদিনই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার নানাভাবে গাজীপুর নির্বাচন প্রভাবিত করছে। এর বড় প্রমাণ ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এমএ মান্নানের ব্যাংক একাউন্ট রাজস্ব বোর্ড জব্দ করেছে। নির্বাচনের দু’দিন আগে সরকারের নির্দেশেই এনবিআর এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।