দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে জ্বালানি কাঠের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের কারণে গত তিন মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। জ্বালানি কাঠের দাম বৃদ্ধির কারণে এক শ্রেণির মানুষ উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী উজাড় করে ফেলছে। দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও সরকারিভাবে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। মানুষ সাধারণত জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরশীল। শহর অঞ্চলে বিত্তবানরা বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডার ভর্তি এলপি গ্যাস ক্রয় করে রান্নার কাজ করেন। বর্তমান বাজারে হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, দারিদ্র্যপীড়িত দক্ষিণাঞ্চলের ৮০ ভাগ পরিবারই বাসা-বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ (লাকড়ি) ব্যবহার করে। নামী-দামি রেস্টুরেন্ট, খাবার হোটেল, বেকারি, ফুড প্রোডাক্ট কোম্পানি ও কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবার তৈরিতে জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি জ্বালানি কাঠের ব্যবহার হয়ে থাকে ইটের ভাটাগুলোতে। যে পরিমাণে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে সে পরিমাণের কাঠ উত্পাদন বা সরবারহ না থাকায় দিনে দিনে জ্বালানি কাঠ সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।
বরিশাল সদর উপজেলাসহ বাকেরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জে ইটভাটার মালিকরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাইন্সেসবিহীন টিনের চোঙ্গা ও কোনো রকম দায়সারা চোঙ্গা বসিয়ে চালাচ্ছে একাধিক ইটভাটা। কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পোড়ান হচ্ছে মূল্যবান বনজ ও ফলদ গাছ। ভাটার ধুলা বালু, কালো ধোঁয়া ও আগুনের তাপে ধ্বংস হচ্ছে নিকটবর্তী এলাকার সবুজ বনজ সম্পদ এবং ফলদ গাছ। এসব এলাকার ধানসহ অন্যান্য ফসলি ক্ষেত ইটভাটার তাপে হারাচ্ছে উর্বরতা। এসব ইটভাটায় মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চললেও লাখ টাকার জরিমানায় মুক্তি পেয়েই চলে কোটি টাকার ব্যবসা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটিকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নগরীর চানমারী, হাটখোলা, পলাশপুর, কাউনিয়া বিসিক এলাকার কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত এক মাসে জ্বালানি কাঠের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। ব্যবসায়ীদের একই অভিমত সরবারহ না থাকায় কাঠের দাম বেড়েছে।
নগরীর পলাশপুর সংলগ্ন কাঠ ব্যবসায়ী খোকন বেপারী জানান, এখন তারা অগ্রিম টাকা দিয়েও কাঠ কিনতে পারছেন না। উপকূল কিংবা নগরীর আশপাশের যেসব এলাকা থেকে দৈনিক হাজার হাজার মণ কাঠ আসত, তা এখন সীমিত আকারে আসছে। বেশি দামে ক্রয়ের কারণেই তারা বেশি দামে কাঠ বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে একাধিক ব্যবসায়ী জানান।
বর্তমানে প্রতিমণ রেইন্টি বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিনশ টাকায়। যা পূর্বে দুইশ টাকায় বিক্রি হতো। চাম্বুল, মেহেগনিসহ অন্যান্য কাঠের দামও বেড়েছে তিন থেকে চারগুণ। যারা কাঠের পরিবর্তে গ্যাসের সাহায্যে রান্না করেন তাদেরও স্বস্তি নেই। বর্তমানে ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার ভর্তি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকার উপরে এবং ১৫ কেজি ওজনের গ্যাস বিক্রি হচ্ছে প্রায় তেরোশ টাকায়। ছোট পরিবারের কম রান্না করা হলেও এক মাসে দু’টি গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে। বড় বিত্তবান পরিবারের মাসে সিলিন্ডার দরকার হয় ৩-৪টি।