খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত

৯ পাটকলে ছয় দিনে লোকসান ছয় কোটি টাকা

এনামুল হক, খুলনা অফিস

শ্রমিকদের অব্যাহত ধর্মঘটের কারণে গত ছয়দিনে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে ছয় কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে লোকসানের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বকেয়া মজুরি প্রদান ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি জুটমিলের ৩৩ হাজার শ্রমিক মিলগুলোতে উত্পাদন বন্ধ রেখে গত ৫ মে থেকে দ্বিতীয় দফায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। শ্রমিকদের এ আন্দোলনের কারণে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলসহ খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে বর্তমানে ‘অগ্নিগর্ভ’ অবস্থা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি জুটমিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ১২ সপ্তাহের মজুরি এবং বেতনসহ প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা রয়েছে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গত চারমাসে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মজুরি ও বেতন না পেয়ে পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সূত্রমতে, বর্তমানে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে ১৪ হাজার ৫২৫ জন স্থায়ী, ১৮ হাজার অস্থায়ী এবং ৫২২ জন বদলি শ্রমিকসহ ৩৩ হাজার ৪৭ জন শ্রমিক এবং এক হাজার ১৮৭ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

মিল সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি জুটমিলের প্রতিদিনের উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ মেট্রিক টন। সেখানে প্রতিদিন উত্পাদন হচ্ছে ১০০ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন। প্রতিদিনের উত্পাদিত এই ১০০ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্যের বাজার মূল্য ৮০ লাখ টাকা থেকে ৮৫ লাখ টাকা। সেই হিসেবে গত ছয়দিনে প্রায় ছয় কোটি টাকার পাটপণ্য উত্পাদন বঞ্চিত হয়েছে । বর্তমানে পাটকলগুলোতে মাত্র ৪৭ হাজার ৭৪৭ কুইন্টাল কাঁচাপাট মজুদ রয়েছে। যা দিয়ে মাত্র ১৫ দিন পাটকলগুলোর উত্পাদন চলতে পারে। এছাড়া উক্ত মিলগুলোতে ৩২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন হেসিয়ান, সেকিং, সিবিসি ও ইয়ার্ন পাটজাত পণ্য মজুদ আছে।

এদিকে, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে প্রায় ৩২৫ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের মূল বাজার হচ্ছে, সুদান, ঘানা, সিরিয়া, ইরান ও ভারত। কিন্তু গত এক বছর ধরে ওই দেশগুলোতে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে পাটকলগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন খুলনা অঞ্চলের সমন্বয়কারী (লিয়াজোঁ কর্মকর্তা) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মজুরি ও বেতন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ কারণে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার চেষ্টা করছে। আশা করি খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।