নীলফামারীতে হাতের কাজে হাজারো নারীর জীবিকায়ন

উপজেলার ঢেলাপীর উত্তরা আবাসন প্রকল্পে প্রায় এক হাজার পরিবারের বসবাস। ২০০৫ সালে এ আবাসন প্রকল্পটি ভাসমান, বানভাসী, ভিটেমাটিহারাদের জন্য তৈরি করা হয়। প্রতিটি ঘরের সামনে কাঠের তৈরি ফ্রেমে বসে মেয়েরা নিপুণ হাতে সুঁই-সুতা দিয়ে চুমকি, পুঁতি আর জরির কাজ করছেন। তৈরি করছেন নানা নকশার শাড়ি, ওড়না, থ্রি-পিস ও ব্লাউজ। প্রায় বছরখানেক ধরে এখানকার এক হাজার পরিবার এ কাজ করে আজ স্বাবলম্বী। যেখানে নারীরা এক সময় অলস সময় কাটাতো। আজ সেখানে তারা বিভিন্ন নকশার কাজে ব্যস্ত। অভাবকে জয় করেছেন তারা। শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরাও সুযোগ পেয়েছে লেখাপড়ার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার প্রায় তিন হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু। আবাসনের বেবী আক্তার, কাজলী, পারভীন, শাহিদা জানান, তাদের শাড়িসহ চুমকি, পুঁতি ও জরি সরবরাহ করা হয়। কাজ শেষে মজুরি বাবদ শাড়ি প্রতি ৬ থেকে ৭শ’ টাকা পান। একটি শাড়িতে হাতের কাজ শেষ করতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগে। তারা কেউ এ ব্যাপারে কোথাও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি। ঈদ সামনে রেখে দিনে-রাতে চলছে সমানতালে কাজ। আবাসন সমবায় ও পুলিশিং কমিটির সভাপতি মতিন আলম জানান, যখন আবাসনে কাজ ছিল না, তখন আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হতো। এখন কাজ করে সবাই ভাল আছে। এ নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তারা আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারতো বলে আমি মনে করি।