মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রেই থাকবে এশিয়া

রুনেইতে অনুষ্ঠিত আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এশিয়ায় মার্কিন উদ্যোগের কোনো ঘাটতি হবে না। অপরদিকে, তিনি চীনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে যেতেও রাজি নন। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এশিয়ামুখী হয়ে ওঠে কেরির পূর্বসূরি হিলারি ক্লিনটনের আমলে। তিনিই আমেরিকার ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় শতাব্দী’ শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ক্লিনটনের প্রথম বিদেশযাত্রা তাকে নিয়ে যায় এশিয়া অভিমুখে। কিন্তু বিগত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় সহযোগীদের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, ওয়াশিংটনের এশিয়ার প্রতি আগ্রহ পররাষ্ট্রনীতিতে এশিয়ার অগ্রাধিকার কমছে কিনা, বিশেষ করে কেরি যখন দৃশ্যত সিরিয়া সংঘাত এবং ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনে সম্পর্কের প্রতিই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামে কেরি ঠিক সেই সন্দেহই দূর করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া থেকে নজর ফেরাচ্ছে না। এমনকি আগামীতে এশিয়ায় মার্কিন উদ্যোগ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে কেরি আশা প্রকাশ করেন। কেরির এ ঘোষণা আসিয়ানের দশটি দেশই নয়, সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, জাপান. নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদের সামনে। ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর এই আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম বা এআরএফ আয়োজিত হচ্ছে এবং বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চ হিসেবে তার গুরুত্ব বেড়েছে বৈ কমেনি। এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একাধিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তার মধ্যে দক্ষিণ এবং পূর্ব চীন সাগরের দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধ, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মিয়ানমারে উপজাতিক এবং সামপ্রদায়িক দাঙ্গার কথা বলা যেতে পারে। কেরি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার একক সংঘাতগুলোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বরং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সংঘাত সমাধানের জন্য চাপ দেবে। স্পষ্টত ওয়াশিংটন এই পন্থায় তার এশীয় সহযোগীদের মনোবল শক্ত করছে এবং চীনের একটি বিপক্ষ শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যদিও সেটা চীনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে না গিয়ে। তবে এই ধরি মাছ না ছুঁই পানি নীতি বাস্তবে কাজ করবে কিনা এবং করলেও কতদিন করবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বিধা আছে।—খবর ডয়চে ভেলের।