রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ করাতকল। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবাধে কাঠ চিরাইয়ের সুযোগে বন উজাড় করে মূল্যবান বৃক্ষ চোরাই পথে আসছে এসব করাতকলে।
জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা, পোমরা, চিরিঙ্গা, নারিচ্ছা, খুরুশিয়া, বনাঞ্চলে সামাজিক বনায়নের বাগান উজাড় করে নিকটস্থ করাতকলগুলোতে কাঠ আসে। নিকটস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ, বান্দরবান রাজস্থলী, বাঙ্গালহালিয়াসহ সংরক্ষিত সরকারি বন ও বাগান হতেও করাতকলগুলোতে কাঠ যায়।
বন আইনের বিধান মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তিন কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের উপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তাছাড়া করাতকল স্থাপনে সরকারি অনুমোদনের দরকার হয়। অথচ রাঙ্গুনিয়ায় অধিকাংশ করাতকল স্থাপনের ক্ষেত্রে সে নিয়ম মানা হয়নি। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের তোয়াক্কা না করে অবৈধ করাতকল স্থাপন করে জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি করাতকলে কাঠের স্তূপ। যেখানে সেগুন, গামারি, গর্জন, আকাশমনি, আম, জাম, কাঁঠালসহ ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পোমরায় ৮টি, সরফভাটায় ৫টি, মরিয়মনগরে ৪টি, পদুয়ায় ৭টি, কোদালায় ৫টি, চন্দ্রঘোনায় ৮টি, শিলকে ৫টি, বেতাগিতে ৪টি, পারুয়ায় ৫টি, রাজানগরে ৯টি, দক্ষিণ রাজানগরে ৭টি, ইসলামপুরে ৯টি, লালানগরে ৫টি, হোচনাবাদে ৫টি, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নে ৫টি করাতকল রয়েছে। যা অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই।
পোমরা বনবিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুচ জানান, রাঙ্গুনিয়া পৌর এলাকা ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন এলাকায় লাইসেন্সধারী করাতকলের সংখ্যা রয়েছে ১২টি। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন এমন করাতকলের সংখ্যা রয়েছে ১৪টি। অনুমোদন ব্যতীত করাতকলের সংখ্যা ১৪টি। বন্ধের নির্দেশসহ অবৈধ করাতকলের সকল মালিকদের প্রতি নোটিস দেওয়া হয়েছে। চন্দ্রঘোনায় করাতকলের মালিক নুর তালেব বলেন, চিরাই করার জন্য গাছ মজুদ করে কাঠ ব্যবসায়ীরা। পাচারও করে তারা। এতে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। তবে করাতকলের বৈধ কাগজপত্র না থাকার সত্যতাও স্বীকার করেন তিনি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, করাতগুলোতে ব্যাপকভাবে কাঠ চিরাইয়ে বৃক্ষসম্পদ উজাড় হচ্ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় বলেন, পৌরসভা ছাড়া অন্য এলাকায় বসানো করাতকলগুলো অবৈধ। স্থানীয় প্রভাবশালী ক্ষমতাবানরাই বসিয়েছে এসব করাতকল। ফলে আমরা চাইলেও এসব করাতকল বন্ধ হবে না।