গণজাগরণ মঞ্চের গণসংলাপে বক্তারা
জামায়াত নিষিদ্ধে সময়ক্ষেপণ করলে দেশে বিপর্যয় নেমে আসবে
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৯
গণজাগরণ মঞ্চের গণসংলাপে বক্তারা বলেছেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কখনোই মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনেনি। জামায়াত ধর্ম পালন নয়, বিক্রি করছে। সরকার আন্তরিক হলেই তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সম্ভব। এজন্য জনমত পক্ষেই রয়েছে। যে খুঁটির জোরে জামায়াত টিকে রয়েছে, তা উত্খাত করতে হবে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে সময়ক্ষেপণ করা হলে বা ‘টালবাহানা’ করলে দেশে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে আসবে।
গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে ‘জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক গণসংলাপে বক্তারা একথা বলেন। গণজাগরণ মঞ্চ এ সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে বাংলা একাডেমীর চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর পর জামায়াত-শিবির সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সূত্র ধরেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। আবার ৭১-এর পর কিছুদিন আত্মগোপন করেছিল। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়াতেই তারা স্বনামে বেরিয়ে এসেছে।
সাহিত্যিক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের গল্প-সত্য এখন দেশের তিন কোটি স্কুলগামী শিশু জানে। তারা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভালোবাসে। রাজাকারদের ঘৃণা করে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া এবং জামায়াত-শিবির বর্জনের কাজ এদের হাত ধরেই সম্পন্ন হবে। নিষিদ্ধ করার কাজটি সরকারকে করতে হবে। জাফর ইকবাল বলেন, ধর্ম শুধু তাদেরই নয়। আমরা যে ইসলাম ধর্ম পালন করি, তাতে পবিত্রতা, সহমর্মিতা ও মুগ্ধতা রয়েছে। জামায়াতের ইসলাম আমাদের ইসলাম নয়। আমরা ধর্মের অবমাননা করি না। আমরা হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সকল ধর্মের মানুষকে পাশে রাখি। তারা নিজেদের মতো করে ধর্ম চর্চা করে, ধর্মের ব্যবসা করে।
শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায় এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মাদ্রাসার ছেলেরা বিনীত-নম্র বলে একটা প্রচারণা আছে। বাস্তবে এটির তেমন সত্যতা নেই। সহিংসতায় তাদের দেখা যায়। চট্টগ্রামের ঘটনা তার বড় প্রমাণ।
জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, জামায়াত-শিবিরের বড় শক্তি তাদের মৌলবাদের অর্থনীতি। গত ৩৫ বছরে তারা ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। এতবড় অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে তারা অনেক কিছুই সম্ভব করছে। জামায়াত নিষিদ্ধ করতে হলে মৌলবাদের অর্থনীতি ধ্বংস করতে হবে। ইসলামী ব্যাংককে জাতীয়করণ কিংবা বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
সাংবাদিক হারুন হাবিব বলেন, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের মানুষকে প্রতারিত করে জামায়াত-শিবির দেশের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। যদি কোনো কারণে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করে রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা হয় তবে দেশে বিরাজমান গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নষ্ট হবে।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, এ মঞ্চ, এ প্রজন্ম চত্বর কোটি জনতার মনে যে আশা এবং স্বপ্নের বীজ বুনেছে তা কখনো বিফল হতে পারে না। মঞ্চের কার্যক্রম নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। গণজাগরণ মঞ্চ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুষের। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি নিশ্চিত করতে সময়ের প্রয়োজনে আমরা আবারো রাজপথের আন্দোলনে নামবো। মঞ্চের কার্যক্রম থেমে নেই। থেমে থাকবে না।
সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, নাছিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ, শাহ সুফি ড. ইমদাদুল হক। সংলাপ পরিচালনা করেন গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা মারুফ রসুল।