শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৩
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত
একটি দেশের অর্থনীতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় মূলত সরকার তথা রাজনীতি দ্বারা। সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই প্রণয়ন করেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নীতিমালা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি অস্থিতিশীল থাকে কিংবা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত যদি চরম আকার ধারণ করে তাহলে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপক হারে হ্রাস পায়। বিশেষ করে বিদেশী কোম্পানি ও সংস্থাগুলো বিনিয়োগের সাহস হারিয়ে ফেলে। ফলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া হরতাল, অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের মত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিগুলোও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে চরম হুমকিস্বরূপ। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশে সব সময় স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে দেশের মধ্যে কোন রকম অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা কোনভাবেই ঠিক হবে না। পারস্পরিক আলোচনা বা সংলাপের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। যা দেশ ও জনগণের জন্য মঙ্গলজনক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে সহায়ক রাজনৈতিক দলগুলোর তাই করতে হবে। নিজেদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থহানি করা উচিত হবে না। তাই দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে তারা যেন রাজনীতিকে দেশ ও জনগনের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করেন।
মো. ওমর ফারুক
মাস্টার্স, ১ম সেমিস্টার
দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
হরতাল, সংঘাত নয়, চাই শান্তির সমীকরণ
প্রকৃতপক্ষে আমরা সকলেই শান্তির অন্বেষণ করি। যে কোন সমস্যা শান্তিপূর্ণ সমাধান করাই সবার জন্যেই মঙ্গলজনক। দেশ আজ মহাসংকটে। আমরা যেন এ বাণীতে সয়ে গেছি। আমাদের ইচ্ছা শক্তি আজ ভোঁতা। সংকট উত্তরণের পথ পরিক্রমা জেগে ঘুমানোর ভূমিকা পালন করছে। হরতাল, সন্ত্রাসবাদ নিয়মের অংশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। সরকার, বিরোধীদল ও বুদ্ধিজীবীদের গোলটেবিল বৈঠক কিসের সমীকরণ ভাবনা তা আমাদের বোধগম্য নয়। জনগণ এসব বুঝে না। দু’বেলা দু’মুঠোতেই খুশি। কিন্তু যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে মসনদ দীর্ঘদিন অযৌক্তিক বা অন্যায়ভাবে দখলে রাখার অভিলাষ থেকেই সমস্যার সৃষ্টি। এই সমস্যা যদি থেকেই যায় তাহলে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল হয়ে মধ্যম আয়ের দেশের স্বপ্ন পূরণ মোটেও সম্ভব হবে না। কেননা আমরা সংশোধন প্রিয় মানুষ নই। এই মুহূর্তে প্রয়োজন আম-জনতার ঐক্য, প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তাহলেই সরকার, বিরোধীদল, আমলাসহ সকলের বোধদয় হবে এবং আসবে শান্তিপ্রিয় স-মা-ধা-ন।
খাদিজা জাহান মুক্তা
দ্বাদশ শ্রেণি
সমূর্ত্ত জাহান মহিলা (ডিগ্রি) কলেজ
নান্দাইল, ময়মনসিংহ
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিমজ্জিত হলে ভাগ্যের পরিবর্তন কী সম্ভব?
শান্তি ছাড়া কোন দেশের অর্থনীতিই নয়, কোন উন্নয়নই সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক সংগঠনের সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বসম্মতি ক্রমে ক্ষমতা হস্তান্তর করা না হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিমজ্জিত হবে। আর নিমজ্জিত অর্থনীতিতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না কোন অবস্থাতেই। জোর করে ক্ষমতায় থাকার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দেশ ও জনগণের উন্নয়নে রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ যদি রাজনীতি না করেন তাহলে দেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। রাজনীতির নামে যারা নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন তাদেরকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে বয়কট করে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে—অসত্ ও স্বার্থন্বেষী ব্যক্তিরা যাতে রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। সরকার তথা ক্ষমতাসীন মহল দেশের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার পরিবর্তে গোড়া থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা উপর্যুপরি সৃষ্টি করছে। এর দায় দায়িত্ব সরকারের বেশি হলেও বিরোধী দলগুলোরও কম নয়। কিন্তু অপরিমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভুল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আমাদের দেশ পিছিয়ে পড়ছে। আগামী দিনগুলো উজ্জ্বলতর হওয়ার প্রত্যাশা ও স্বপ্নের পরিবর্তে আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সার্বিক উন্নয়ন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্রমহ্রাসমানতার অন্যতম কারণ হচ্ছে বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতা। এই সহিংসতার পথ থেকে ফিরে না আসলে কোন ভাবেই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মো. হুমায়ুন কবীর ভূঞা
মাস্টার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ )
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে স্বাধীনতা যুদ্ধের অর্জন ব্যর্থ হবে
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। আর এই গণতান্ত্রিক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক পূর্বশর্ত হলো সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু সমস্যার সৃষ্টি হয় তখনই যখন তারা ব্যর্থতায় নিমজ্জিত হয়ে জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটিয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তখনই প্রতিপক্ষ বা বিরোধীদল হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর ইত্যাদির মতো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। যা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের গতি সচল রাখা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এসব কারণে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিমুখি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর আমরা জানি আমাদের দেশের সিংহভাগ আয় আসে পোশাক শিল্প থেকে। অথচ, পোশাক শিল্পের অব্যবস্থাপনার ফলে ঘটে যাচ্ছে ‘রানা প্লাজার মতো দুর্বিসহ ঘটনা’। স্থগিত হচ্ছে জিএসপি সুবিধা।
পাপিয়া সুলতানা লিমা
দ্বাদশ শ্রেণি, সমূর্ত্ত জাহান মহিলা (ডিগ্রি) কলেজ
নান্দাইল, ময়মনসিংহ
অনুলিখন : শাহ্ আলম ভূঁইয়া