পর্যাপ্ত লবণ মজুদ থাকতেও আমদানির পাঁয়তারা

বাংলাদেশ লবণ শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) সমীক্ষা মতে, চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় উত্পাদিত লবণ দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় দেড় লাখ টন। বিসিকের তথ্য মতে, এ বছর দেশে লবণ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ ৬ হাজার টন। এখানে উত্পাদন হয়েছে ১৬ লাখ ৩৪ হাজার টন। তবে বাংলাদেশ লবণ চাষি সমিতি মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে তাদের সমীক্ষায় দাবি করেছেন, এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রায় ২০ লাখ টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। এখনো মাঠে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে কমপক্ষে ১২ লাখ টন লবণ। অভিযোগ উঠেছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুদ থাকার পরও কিছুসংখ্যক মেকানিক্যাল লবণ মিল মালিক সিন্ডিকেট করে বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়, ট্যারিফ কমিশন ও শিল্প মন্ত্রাণালয়কে প্রভাবিত করার মাধ্যমে দেশে ফের ভারতীয় লবণ আমদানির পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় বিদেশি লবণ আমদানি করে দেশের লবণ শিল্প ধংসের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ লবণ চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের লবণ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য লবণ চাষি সমিতি প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বাংলাদেশ লবণ শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের গবেষণা কর্মকর্তা মো. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে লবণ উত্পাদন হয়েছে ১৬ লাখ ৩৪ হাজার টন। এখন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার টন লবণ। লবণ চাষি সমিতির সভাপতির নেতারা বলেন, এখানে লবণ উত্পাদন হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টন। এখনো বিক্রির অভাবে মাঠে পড়ে রয়েছে (মজুদ আছে) কমপক্ষে ১২ লাখ টন লবণ। তারা আরো বলেন, গতবছরও মেকানিক্যাল মিল মালিকরা বিদেশ থেকে ৭ লাখ টন লবণ আমদানি করে। এ লবণের মধ্যে এখনো ৩ লাখ টন লবণ তাদের গুদামে মজুদ রয়েছে। সেই হিসেবে এবছরের উত্পাদিত লবণসহ দেশে এখন ২৭ লাখ টন লবণ সরকার ও চাষি এবং মিল মালিকদের হাতে রয়েছে। লবণ চাষি সমিতির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, মেকানিক্যাল লবণ মিলের মধ্যে কয়েকটি চালু থাকলেও অন্য মিলগুলোর একেবারে অস্তিত্ব নেই। এসব মিল কাগজে-কলমে চালু দেখিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ডিও পাওয়ার জন্য সিন্ডিকেট করে। লবণ চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে উত্পাদিত প্রচুর লবণ বিক্রির অভাবে মজুদ পড়ে আছে। বেশিরভাগ লবণ চাষিদের জমিতে গর্তে আটকানো অবস্থায় মাঠে রয়েছে। এ অবস্থায় দেশে ভারতীয় লবণ আমদানির গুজবে ইতোমধ্যে ভ্যাকোয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতির লবণ একাধিক দেশীয় কোম্পানি ক্রয় বন্ধ রেখেছেন। তিনি বলেন, চাষিরা আশায় বুক বেঁধে ছিল উত্পাদিত লবণ বিক্রি করে আসন্ন রমজান ও ঈদের আনুষঙ্গিক খরচ জোগাবেন। কিন্তু সঠিক সময়ে লবণ বিক্রি করতে না পেরে এখন চরম হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। তিনি দাবি করেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে এক সময় চাষিরা লবণ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বিলুপ্ত হবে দেশীয় লবণ শিল্প।