ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৮
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল সাড়ে ১২ হাজার সদস্য। মোতায়েন করা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, আনসার ব্যাটালিয়ন ও এপিবিএন সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দিয়েছেন ভোট কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায়। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক টহল দিয়েছে। এতো নিরাপত্তার মধ্যেও বেশ কয়েকটি কেন্দ্র এলকায় ১৮ দলীয় জোট প্রার্থী এম এ মান্নান ও ১৪ দলীয় প্রার্থী মো. আজমত উল্লা খানের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
র্যাবের ২৮টি দল একযোগে গতকাল সকাল ৭টা থেকে নির্বাচনী এলাকায় টহল শুরু করে। এর সঙ্গে র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, অঙ্গীভূত আনসার ও বিজিবির সমন্বয়ে ৫৭টি ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টিম, ১৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম টহল দিয়েছে।
এ দিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাকোড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার আইডি কার্ড না নিয়ে আসার কারণে অনেক ভোটারকে লাইন থেকে বের করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এই কেন্দ্রে ভোটারদের মারধর করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই কেন্দ্রের ভোটার জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ভোটার আইডি কার্ড না নিয়ে আসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। তখন তিনি কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে টানা-হেঁচড়া করে কেন্দ্র এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে গাজীপুরের সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের শেষ মুহূর্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ভোটারদের ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় র্যাবের লাঠিচার্জে দশ মাস বয়সী এক শিশুসহ ১০/১২ জন আহত হয়েছেন। এই কেন্দ্রের কয়েকজন ভোটার অভিযোগ করেন, বিকাল ৪টার দিকে তারা ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে চাইলেও তাদের ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ ও র্যাব। এসময় র্যাব-পুলিশের লাঠি চার্জে ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেন, ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশে বাধা দিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে উপস্থিত পুলিশ পরিদর্শক মো. মনজুরুল আলম বলেন, ভোট গ্রহণের সময় চারটা পর্যন্ত হলেও কিছু ভোটার নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে চায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দিতে গেলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠি চার্জ করে।