মিসরে এখন চলছে দু’জনের শাসন

একজন আপাতত আড়ালে। নিকট এবং দূর অতীত খুব গৌরবের না হলেও জেনারেল আবদেল ফাতাহ আল-সিসিই এখন এক অর্থে সবচেয়ে ক্ষমতাবান। রাষ্ট্র শাসনের ভার অবশ্য প্রধান বিচারপতি আদলি মনসুরের কাঁধে। দুই বিপরীত মেরুর মানুষই এখন শাসন করছেন মিসর। — খবর ডয়চে ভেলের। ৪৮ ঘণ্টার ‘চরমপত্র’ দিয়ে দেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে সেনাবাহিনী। জেনারেল আবদেল ফাতাহ আল-সিসির দেয়া ‘হুমকি’কে শুরুতে আমলে না নিলেও মুরসি পরে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাতে কাজ হয়নি। তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়া মুরসিকে গৃহবন্দী করে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন আল-সিসি। নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্্তীকালীন সরকার গঠন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট হয়েছেন আদলি মনসুর। নতুন দায়িত্বে শপথও নিয়েছেন স্বৈরশাসক হোসনি মুবারক এবং সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসির অধীনে কাজ করা এই বিচারপতি। আদলি মনসুর এতকাল সাংবিধানিক আদালতের প্রধান ছিলেন। আপাতত তাঁর হাতেই ক্ষমতার রাশ চলে এলো। শপথ গ্রহণ করে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মনসুর বলেন, তারাও দেশের অংশ এবং জাতির ভবিষ্যত্ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হলো। সেনাপ্রধান আল-সিসিও কাজ করেছেন মুবারক এবং মুরসির আমলে। এই জায়গায় মিল থাকলেও আদলি মনসুর আর আল-সিসির অতীত কিন্তু দু’জনকে ভিন্ন অবস্থানেই দাঁড় করিয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহের আল-বেহাইরিস অবসর নেয়ার পর গতমাস, অর্থাত্ জুনের শেষদিকে প্রেসিডেন্ট মুরসি সেই দায়িত্ব দেন মনসুরকে। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি হয়ে গেলেন অন্তর্বর্্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট। খুব তাড়াতাড়িই পেলেন বড় দায়িত্ব।