স্কুলমাঠ দখলমুক্ত করুন

বাধা না দিয়া বাড়িতে দিলে মানুষ বাড়াবাড়িই করিতে থাকে। ন্যায়-অন্যায়, নীতি-নৈতিকতা সহজেই জলাঞ্জলি দিয়া থাকে। ইহাই মানুষের প্রবণতা। আর সেই জন্যই একটি রাষ্ট্রে, একটি জনপদে আইনের প্রয়োজন হইয়া থাকে। অপরদিকে রাষ্ট্র পরিচালকদের দ্বারা আইন প্রণীত হইয়া থাকে। আর সেই আইন যদি যথাযথভাবে প্রয়োগ না করা হয়, তাহা হইলে ওই বাড়াবাড়ি বন্ধ করিবার কোনো উপায় থাকে না। দেশে যে আইনের সঠিক প্রয়োগ নাই তাহার সবচাইতে বড় প্রমাণ হইল দখলদারিত্ব। যে যেইখানে পারে দখল করিতেছে। শুধু এখন নহে, এই দখল অপসংস্কৃতি বহুকাল ধরিয়া চলিয়া আসিতেছে, যাহার ইতিহাস টানিতে গেলে স্বাধীনতারও অনেক পিছনে চক্ষু রাখিতে হইবে। যত্রতত্র খাস জমি দখল, জলাশয দখল বা কোথাও  হয়তো মাঠ দখল—ইহা যেন এক অব্যাহত প্রক্রিয়া। আর এই দখলের সবচাইতে বড় শিকার সরকারের খাস জমি, রেলওয়ের সম্পত্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ইত্যাদি। এই রকমই একটি দখলদারিত্বের ঘটনা আমাদের  বিশেষ নজর কাড়িয়াছে।

পত্রিকান্তরে জানা গিয়াছে, ৯১ বত্সর আগে প্রতিষ্ঠিত শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠখানি দীর্ঘকাল ধরিয়া দখল করিয়াছেন ওই অঞ্চলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিদ্যালয়ের সম্মুখে ৩৩ শতাংশ জায়গা তাহারা দখল করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, উক্তস্থলে বাজার বসাইয়া বাণিজ্য করিতেছেন। যাহার কারণে স্কুলের শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ যার পর নাই ব্যাহত হইতেছে। সংবাদ হইতে আরো জানা গিয়াছে ৩০ বত্সর আগে এই মাঠখানি দখল করিয়াছিলেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের দক্ষিণ হস্তগণ। তখন হইতেই বাজার বসিতেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানাইয়াছে যে, কয়েক দফা নোটিস দিলেও তাহা কাহারো কর্নগোচর হইতেছে না। বর্তমানে স্কুল প্রাঙ্গণে খেলাধুলা তো দূরের কথা, অ্যাসেম্বলি করাও কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। এইসব কারণে স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়া আসিতেছে।

পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, দখল একটি অপসংস্কৃতি। বরং বলা ভালো, রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি। এই অপকর্ম হইতে দেশকে মুক্ত করিতে হইবে। যাহারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটাইয়া এইসব দখলের সঙ্গে যুক্ত হইয়াছেন তাহাদের বিরুদ্ধে দল-মত বিবেচনায় না রাখিয়া আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। শুধু বাজিতখিলা স্কুল নহে, বাংলাদেশব্যাপী সরকারি এবং আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের সম্পদ বেদখল হইয়া আছে। উহা দখলমুক্ত না করিতে পারিলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হইবে না। মনে রাখিতে হইবে, এইসব দখলদারিত্ব একটি সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করিয়া থাকে। দখলকৃত মাঠ, জলা, খাসজমি চিহ্নিত করিয়া মুক্ত করিতে বিশেষ অভিযান চালাইতে হইবে। ইহার ব্যত্যয় ঘটিলে কোনোদিন হয়তো আমরা দেখিব, সরকারি অফিস হইতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বাহির করিয়া দিয়া রাজনৈতিক সমর্থনপুষ্ট কেহ হয়তো চেয়ারখানাতেই বসিয়া পড়িবেন।