পানি জীবন ধারণের এক অপরিহার্য উপাদান। বিশুদ্ধ পানি ছাড়া বিশেষ করিয়া মানবজীবন কল্পনাও করা যায় না। শঙ্কার বিষয় হইল, প্রচন্ড দাবদাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট তীব্র হইয়া উঠিয়াছে। এমন পরিস্থিতিতে নগরীর মিরপুর ও রামপুরা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করিয়াছেন। এই দুই এলাকাতে বিক্ষোভ হইলেও নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও পানির সংকটের অভিযোগ পাওয়া যাইতেছে। নগরীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, মধুবাগ, বাড্ডা, উত্তরা, ডেমরা, মাতুয়াইল, শ্যামপুরসহ অন্যান্য এলাকায় পানির সংকট রহিয়াছে।
শুধু তাহাই নহে, যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ খানিকটা পাওয়া যাইতেছে তাহাও ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত। ফলে সেই পানিও ব্যবহার করিতে পারিতেছেন না নগরবাসী। পানি নিয়া ওয়াসার নানা অনিয়মের চিত্র ফুটিয়া উঠিতেছে। ওয়াসা সূত্রে জানা গিয়াছে যে, রাজধানীতে চাহিদার ৭৮ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ হইতে সংগ্রহ করা হয়, বাকি ২২ শতাংশ বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী হইতে শোধন করিয়া সংগ্রহ করা হয়। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় বর্তমানে নদী দুইটির পানির স্তর অনেকটাই নিচে নামিয়া গিয়াছে, পাশাপাশি দূষণের মাত্রাও বাড়িয়াছে। ইহা ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামিয়া যাওয়ায় নলকূপ দিয়া পানির উত্তোলনও কমিয়াছে। এসব কারণেই মূলত নগরীতে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়াছে। ওয়াসার মতে, রাজধানীতে দৈনিক পানির চাহিদা ২৩০ কোটি লিটার। ওয়াসার দাবি তাহারা দৈনিক ২৪৫ কোটি লিটার পানি উত্পাদনে সক্ষম। যেই সকল এলাকায় সংকট সেইখানে সরবরাহ লাইনে সমস্যা রহিয়াছে। বিভিন্ন এলাকায় পানির পাইপলাইনে কাজ চলায় এবং অনেকে লাইন ছিদ্র করিয়া পানি নেওয়ায় সেইখানে সরবরাহ করা পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ থাকিতেছে। প্রশ্ন আসিবে ওয়াসা কি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিতেছে? করিলে লাইন ছিদ্র করিয়া পানি নেওয়ার ঘটনা ঘটিতেছে কেমন করিয়া? ইহা ছাড়া ওয়াসার বিরুদ্ধে অভিযোগ রহিয়াছে, পানির এই সংকটকালে তাহাদের একদল কর্মচারী পানি বাণিজ্য শুরু করিয়াছে। এক গাড়ি পানির দাম ৫০০ টাকা হইলেও এক হইতে দেড় হাজার টাকা করিয়া নেওয়া হইতেছে। পানি না পাইয়া নগরবাসী বোতলজাত পানির উপর নির্ভরশীল হইয়া পড়িতেছেন।
আরো শঙ্কার বিষয় হইল, পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে একদিকে যেমন ভোগান্তি বাড়িতেছে, অপরদিকে আর্থিক খরচও বাড়িতেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াসার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা অত্যাবশ্যকীয় হইয়া উঠিয়াছে।