ব্যবসায় উন্মুক্ত দ্বার নীতি থেকে সরে যাচ্ছে জর্জিয়া
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২০:৪২
২০০৩ সালে জর্জিয়ার নতুন দিনের নেতারা যখন ক্ষমতা নেন তখন দেশটি ছিল দুর্নীতি আর বিশৃংখলায় পরিপূর্ণ। তারা দেশের গোটা শাসন ব্যবস্থাকে নাড়া দিতে চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা করা মিখাইল শাকাসভেলির নেতৃত্বে নতুন নেতারা পাশ্চাত্যের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেন। বিপ্লব পরবর্তী জর্জিয়ার অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম উদ্যোক্তা নিকোলাজ গিলোরি বললেন, একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার জন্য অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা খোলামেলা নীতি অবলম্বন করেছিলাম। আমরা জর্জিয়ার ভিসা পদ্ধতিকে সহজ করেছিলাম যাতে বিনিয়োগকারীরা এসে সহজে ব্যবসা শুরু করতে পারে। রাজস্ব কমানো হল, বাণিজ্যিক লাইসেন্সের শর্ত শিথিল করা হল। বিদেশিরা জর্জিয়ায় আসতে শুরু করল। আশেপাশের দেশ ইরান, তুরস্ক ও মিসর থেকে আসে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী। ভারত থেকে কিছু কৃষক এবং চীন থেকে ল্যান্ড ডেভেলপাররা আসে। অনেক পতিত জমি ভরে ওঠে টমেটো আর তরমুজে। জর্জিয়ার ‘উন্মুক্ত দ্বার’ ব্যবসা নীতির কারণে ক্লিনিক ব্যবসার মত বেশ কয়েকটি ব্যবসার বেশ উত্কর্ষ ঘটে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইটালি থেকে চিকিত্সার জন্য দম্পতিরা আসতে থাকে জর্জিয়ায়। তবে বর্তমানে বিদেশিদের জন্য সেই ‘উন্মুক্ত দ্বার’ নীতি থেকে সরে যাচ্ছে জর্জিয়া।
একটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা মরিয়ম কুকুনসভিলি বলেন, বিদেশিরা চিকিত্সার জন্য খুব সহজে চলে আসতেন কারণ তাদের এজন্য ভিসার প্রয়োজন হতো না। চিকিত্সা খরচও এখানে অনেক কম। সংস্কারের কারণে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসার রেংকিংয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে জর্জিয়া। এখন তার অবস্থান নবম। ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ১০ ভাগ। এ সময় সেখানে রেজিস্টার্ড কোম্পানির সংখ্যা ৩৬ হাজার থেকে বেড়ে ৫১ হাজারে পরিণত হয়। কিন্তু সাথে সাথে দেখা দেয় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। ধরা যাক কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী রিসোর্টের শহর বাটুমির কথা। এটি একটি আঞ্চলিক অবকাশ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আশেপাশের দেশগুলো যেখানে জুয়া নিষিদ্ধ সেখান থেকে পর্যটকরা আসছে বাটুমিতে। এর ফলে পতিতাবৃত্তিও বেড়ে যাচ্ছে।
গত কয়েকবছরে প্রায় ২ হাজার ভারতীয় কৃষক জর্জিয়ায় এসে সাফল্যের মুখ দেখেছে। তারা এখন ফসলের মৌসুমে ২০-২৫ জন কৃষি শ্রমিককে নিয়োগ দিচ্ছেন। একজন ভারতীয় কৃষক বললেন, আমরা এখানে এসেছি কারণ এখানকার মাটি অনেক উর্বর দামেও সস্তা, আবহাওয়া চমত্কার। তবে বাধাও আছে। বিদেশিদের ব্যাপারে অনেকেই অসন্ু্তষ্ট। জর্জিয়ান ফার্মারস ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা রাউল বাবুনাসভেলির মতে জর্জিয়ার ভূমির ওপর শুধু জর্জিয়ানদেরই অধিকার রয়েছে। লিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানি ঘিয়া নডিয়া বললেন, উন্মুক্ত দ্বার নীতির প্রতিক্রিয়া স্বরূপ জর্জিয়ায় উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়েছে। গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট সাকাশভেলির পরাজয়ের এটি একটি কারণ। অনেকেই বলেন, সাকাশভেলি অনেক বেশি বিদেশিকে প্রবেশ করিয়েছেন,এটি দেশ বিক্রি করে দেয়ার মত।
ধনকুবের বিদজিনা ইবানিসভিলির সরকার বিদেশিদের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করতে শুরু করেছেন। জিডিপি ও বিদেশি বিনিয়োগ কমতে শুরু করেছে। ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী সুলুকিয়ানি। ১ জুলাই থেকে ইরানের সাথে ভিসামুক্ত যাতায়াত বন্ধ করা হচ্ছে। এতে ইরানের সাথে বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জর্জিয়ার পার্লামেন্টে সম্পতি একটি আইন পাস হয়েছে যাতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিদেশিদের কাছে কৃষিজমি বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্কারবাদী নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিকোলাজ গিলোরি বিদেশিদের ওপর কড়াকড়ি আরোপে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিদেশিরা আসলে শ্রমিক ও পুঁজি বাড়ে যা অর্থনীতির জন্য ভালো।