উখিয়ায় সামাজিক বনায়নে আগ্রহ হারাচ্ছে মানুষ

উখিয়ায় ৩ বছরেও দলিল পায়নি ১৬৯ জন উপকারভোগী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে সামাজিক বনায়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে ঐসব উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও দলিল ও বনভূমির জায়গা হস্তান্তর না করায় সামাজিক বনায়নের প্রতি আগ্রহই হারিয়ে ফেলছে সুফলভোগীরা। এতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচী ভেস্তে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। জানা গেছে, সরকার বন সম্পদ উন্নয়ন ও বনভূমি রক্ষাকল্পে দেশব্যাপী সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সনে উপজেলা সদর বন রেঞ্জের আওতায় ৮টি বনবিটের অধীনে প্রায় সাড়ে ৯শ হেক্টর বনভূমিতে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকার ও উপকারভোগী উভয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। অভিযোগ উঠেছে ২০০৯-১০ অর্থবছরে উখিয়া সদর রেঞ্জের আওতাধীন ৪টি বনবিটে উপকারভোগী নিয়োগের মাইকিং করা হলে প্রায় আড়াই হাজার আবেদনকারী সামাজিক বনায়নের আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করে সামাজিক বনায়নের নীতিমালা অনুযায়ী ১৬৯ জন ভূমিহীনকে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করে। ফলিয়াপাড়া গ্রামের উপকারভোগী আবুল কাশেম জানান, দলিল আজ দেবে কাল দেবে করে কালক্ষেপণ করে এ পর্যন্তও দলিল ও বনভূমি হস্তান্তর না করায় উপকারভোগীরা উত্সাহ হারিয়ে ফেলেছে। থাইংখালী বিটের উপকারভোগী সালামত উল্লাহ জানান, দলিল হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ায় সামাজিক বনায়নের জন্য নির্ধারিত বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। ওয়ালাপালং গ্রামের কফিল উদ্দিন জানান, বেদখল হয়ে যাওয়া বনভূমি উদ্ধার করে বনভূমির জায়গা সুফলভোগীদের হস্তান্তরপূর্বক নির্ধারিত স্থানে গাছের চারা লাগানোর বনকর্তা ব্যক্তিদের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারি উদ্যোগ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচী ভেস্তে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা বশিরুল আল-মামুন জানান, যথাসময়ে ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারায় জবর দখলকারীদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না।