জলাবদ্ধতায় রাঙ্গাবালির ২০ হাজার একর জমির চাষ বন্ধ
মলয় কুমার সমিত, পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২২:১৬
রাঙ্গাবালি উপজেলার সদর রাঙ্গাবালি ইউনিয়নের তিন কপাটবিশিষ্ট একটি স্লুইস গেট অকেজো হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাস ও একটানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ২০ হাজার একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকার আমন বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা হতাশ। কৃষক নাসিরউদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমাগো ইউনিয়ন পানিতে তলাইয়া রইছে। আমার তিন মণ বীজধান ফেলাইছি, হেই বীজ সব পইচ্চা গ্যাছে। গরু-মইষের ঘাস খাওয়ানের জাগা পর্যন্ত নাই। ১৫ দিন আগে হাল জোড়ার কথা, এহোনও হাল জোড়তে পারি নাই।
এলাকার শস্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা লুত্ফর রহমান জানান, রাঙ্গাবালি ইউনিয়নে ২১ হাজার একর চাষযোগ্য জমি রয়েছে। ঐ এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান স্লুইসটি বন্ধ থাকায় সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় ২০ ভাগ আমন বীজতলা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। রাঙ্গাবালি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের জলোচ্ছ্বাসের পানির চাপে স্লুইসটির দু’পাশে বেড়িবাঁধে ফাটল ধরে অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করে। এলাকাবাসীর সহায়তায় স্লুইসটি মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ বিষয়টি পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শাহনেওয়াজ তালুকদার জানান, বাহেরচর এলাকার ঐ ৩ ব্যান্ড রেগুলেটরটি প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। সেটি ৪/৫ ফুট নিচে দেবে যাওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ে। একটি নতুন স্লুইস নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছেন। এটি অনুমোদন হলে আগামী শুকনা মৌসুমে নির্মাণ করা যাবে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গতকাল রবিবার জনসাধারণ মানববন্ধন করেছে।