নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন রথীন্দ্রনাথ কুণ্ডু

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী ডাক্তার রথীন্দ্রনাথ কুন্ডু। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমার ভায়রা অনিল বন্ধু-বান্ধবসহ ভারতের পানিঘাটাতে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেয়ার জন্য চলে যায়। সেখানে তিন/চার মাস ট্রেনিং নেয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে এসে ৭ নম্বর সেক্টরে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মতিউর রহমান নিজামী ও রাজাকারদের অত্যাচারে অনিলের পিতা-মাতা ভারতে চলে যায়। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল রবিবার এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, ১৯৮৫ সালে আমি আমার স্ত্রীসহ নীলফামারীতে অবস্থানরত আমার ভায়রা অনিল কুন্ডুর বাড়িতে যাই। সেখানে যাওয়ার পর অনিল তার জীবনের কিছু ঘটনা আমাকে জানায়। তিনি আমাকে বলেন, অনিল মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অপরাধে ১৯৭১ সালের মে মাসে নিজামীর নির্দেশে তার এক ভাগ্নের নেতৃত্বে একদল রাজাকার অনিলদের বাড়ি লুটপাট করে এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর অনিল ও তার গ্রুপ কমান্ডার বাতেন, হামিদ, ফনিন্দ্র নাথ ঘোষ এবং হাবিবুর রহমানসহ সাঁথিয়া থানার অন্তর্গত সোনাতলা গ্রামের পাশ দিয়ে বহমান ইছামতি নদীতে টহল ডিউটি করতো। অনিল তার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ক্ষোভে নিজামীর ওই ভাগ্নেকে ধরার জন্য ফাঁদ পাতে। অনিল জানতো নিজামীর ভাগ্নের মেয়েদের প্রতি আসক্তি ছিল। সেই সুযোগ নেয়ার জন্য ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে অনিল শাড়ি ব্লাউজ পরে মেয়ে সেজে একটি ছইওয়ালা নৌকায় ইছামতি নদীতে ঘোরাফেরা করতে থাকে। নিজামীর ওই ভাগ্নে রাজাকারদের একটি দলসহ ইছামতি নদীতে পেট্রোল ডিউটি করতো। একদিন নিজামীর ভাগ্নে নৌকার মধ্যে মেয়ে আছে ভেবে লাফিয়ে ওই নৌকায় উঠে পড়ে। নৌকাটি হামিদ নামে একজন চালাচ্ছিলেন, ফনিন্দ্র ও হাবিবুর রহমান অস্ত্রসহ নৌকার পাটাতনের নিচে লুকিয়ে ছিল। নিজামীর ভাগ্নে নৌকায় উঠামাত্র অনিল এবং হামিদ ক্ষিপ্রতার সাথে তাকে জাপটে ধরে। সঙ্গে সঙ্গে পাটাতনের নিচ হতে তাদের সহযোগী দুইজন বেরিয়ে ব্লাংক ফায়ার করে। এতে নিজামীর ভাগ্নের সহযোগীরা নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তখন অনিলরা নিজামীর ভাগ্নেকে নৌকার গলুইয়ের উপর শুইয়ে জবাই করে হত্যা করে লাশ ইছামতি নদীতে ফেলে দেয়। নিজামী সাহেবের ভাগ্নেকে মারার কারণে নিজামীর নির্দেশে একদল রাজাকার বাতেনকে সোনাতলায় ধরে নিয়ে আসে এবং তাকে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করে। এই ঘটনাটি ঘটে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে। জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন নিজামীর কৌঁসুলি এডভোকেট মো. মিজানুল ইসলাম।